ইন্টারনেট কী ? এর ব্যবহারের সুফল ও কুফল কি ?

ইন্টারনেট কী ?

ইন্টারনেট হলো– বিশ্বব্যাপী বৃহৎ কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক ( Inter-nation Computer Network Service).

ব্যাক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমস্ত কিছু কম্পিউটার ইন্টারনেটের মাধ্যমে একে অপরের সাথে অতি দ্রুতার সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।

কথিত আছে যে, ” বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ কিন্তু কেড়ে নিয়েছে আবেগ ” ।

এর যেমন সুবিধা রয়েছে তেমনি অসুবিধাও রয়েছে অসংখ্য ।

আজ বিশ্বব্যাপী অসংখ্য তরুণ যুবক, ইন্টারনেটের খারাপ দিক ব্যবহারের ফলে সুন্দর যৌবনকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে ।

ইন্টারনেট ব্যবহারের কিছু সুফল ও কুফল তুলে ধরা হল।

ইন্টারনেট ব্যবহারের সুফল:

ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা নানারকম সুযোগ-সুবিধা পাই ।যেমনঃ

১. নিউজ গ্রুপ একটি ” তথ্য” বা “সংবাদ” প্রদানকারী সংস্থা।

এর মাধ্যমে দেশ ও বিদেশের প্রতিদিনের খবর ঘরে বসেই অনায়াসেই জানা যায়।

২. লেখাপড়া এবং গবেষণার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় যথার্থ বই।

বিশেষ করে গবেষণাধর্মী বইয়ের ক্ষেত্রে অনেককে বিদেশ থেকে বই কোন না কোন মাধমে আনতে হয় বা বিদেশ যেতে হয়।

ইন্টারনেট প্রযুক্তির ফলে , কম্পিউটারের  Key Board – এ চাপ দিয়ে বিশ্বের যে কোনো লাইব্রেরির বই পড়া যায় বা রেফেরেঞ্চে জানা যায়।

৩. Web browser- এর Commerce option- টির মাধ্যমে বিভিন্ন দ্রব্যের কেনাকাটার অর্ডার দেওয়া যায় বা নেয়া যায় ।

এক প্রতিষ্ঠানের সাথে আরেক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় বাণিজ্য সম্পর্কিত যেকোনো লেনদেন সম্পন্ন করা যায়।

৪. জটিল কোনো মামলা মোকদ্দমা ক্ষেত্রে মানুষ আইনের পরামর্শের বা আলোচনার জন্য বিদেশের আইনজ্ঞদের শরণাপন্ন হয়।

কিন্তু এখন আর তার প্রয়োজন হয় না।

এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসেই যে কোনো পরামর্শ লাভ করা যায়।

৫.যেকোনো ভ্রমণ স্থানের আবহাওয়া, থাকার জন্য হোটেল, রিজার্ভেশন, বিমানের টিকেট বুকিং সহ সবই এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা যায়।

৬. ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা ঘরে বাইরে, যে কোন জায়গায় বসেই পেতে পারি উন্নত বিশ্বের চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ ।

৭. সামাজিক নেটওয়ার্ক যেমনঃ- ফেইসবুক, টুইটার, ভাইবার ইত্যাদি এপসের মাধ্যমে খুব সহজেই আমরা একে অন্যের সঙ্গে ছবি,ভিডিও বা যেকোনো তথ্য বিনিময় করতে পারি ।

৮. E-Mail এর মাধ্যমে খুব সহজেই যে কোনো নিউজ পাঠানো যায় বা গ্রহন করা যায়।

 

ইন্টারনেট ব্যবহারের কুফল:

ইন্টারনেট ব্যবহারের ভালোর সাথে সাথে খারাপ দিকও রয়েছে, যা সকলের জন্য বর্জনীয় ।

বিশেষ করে কিশোর ও যুবকদের জন্য অবশই বর্জনীয় । খারাপ দিকগুলো হলোঃ –

১ । ইন্টারনেটকে মানুষ কাজে লাগিয়ে নানা ধরনের ক্রাইম করে যাচ্ছে , যা দিন দিন বেরেই চলছে ।

২। ইন্টারনেটের মাধ্যমে, মানুষ নানা রকম মিথ্যা কথা এবং গুজব ছড়াচ্ছে ।

৩। মানুষকে ধোঁকা দেওয়া ও প্রতারণা করা হচ্ছে এই ইন্টারনেটের মাধ্যমেই।

৪। ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুবক যুবতীরা বিভিন্ন ভাবে পর্নোগ্রাফির চিত্র আদান-প্রদানের মাধ্যমে নিজেকে অশ্লীল ও খারাপ কাজে জরাচ্ছে ।

৫। ছোট্ট ছোট্ট ছেলেমেয়েরা ইন্টারনেটে বসে লেখাপড়া ছেরে দিয়ে বিভিন্ন রকমের গেইমস ডাউনলোড করে খেলসে ও সময় অপচয় করছে।

৬। খারাপ ও সন্ত্রাসী সকল কর্মকাণ্ডে জঙ্গিরা ইন্টারনেট এর মাধ্যমে অপহরণ,গুম,খুন,হুমকি ইত্যাদি ঘটনা সংঘটিত করছে।

৭। কমপিউটারের ভিবিন্ন ডাটা , তথ্য, পাসওয়ার্ড সবচুরি করা হয় এই ইন্টারনেটের মাধ্যমেই ।

৮। ইন্টারনেটের ফলে মানুষখুনের মতও জঘন্য খারাপ কাজ করতে মানুষ পিছপা না হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র,শক্তিশালী বোমা ইত্যাদি তৈরী করছে।

৯। ‘কোনো ব্যক্তির নামে কল্পকাহিনী বা মনগড়া কাহিনী , ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো কথা বা যেকোনো কিছু লিখেন,

ব্লগ কিংবা ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও প্রকাশিত হচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে।

১০। ইন্টারনেট এর জন্য নানা রকমভাবে মানুষ আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মেগাবাইট ক্রয়ের ফলে ।

১১। দিন দিন অধিক পরিমাণে সামাজিক নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীলতা মানুসকে সত্যিকারের যোগাযোগের অনুভূতিকে কমিয়ে দিচ্ছে।

ইন্টারনেট এর ব্যবহারকারীরা একেই সত্যিকারের সম্পর্ক ভাবতে শুরু করেছে।

১২। বাইরে ঘুরে বেড়ানো, খেলাধুলা, মানুষের সঙ্গে মেলামেশার দক্ষতা , ইচ্ছা ও আকাঙ্খা কমে যাচ্ছে।

এর ফলে কিছু কিছু মানুষের এখনি মানসিকভাবে হতাশায় ভোগার সম্ভাবনাও দেখা দিতে শুরু করেছে।

১৩। ‘চেরোনিবাল ভাইরাস’ নামক একটি “ভাইরাস” বছরের একটি নির্দিষ্ট দিকে আক্রমণ চালিয়ে সারাবিশ্বে লাখ লাখ কম্পিউটার অকেজো করে দিচ্ছে।

ইন্টারনেট প্রযুক্তির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সবক্ষেত্রে যেমন ভালো দিক রয়েছে ,ঠিক তেমনি কিছু খারাপ দিকও রয়েছে।

সবকিছুর মতো প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটেরও রয়েছে কিছু খারাপ দিক।

সকল অভিভাবকদের দায়িত্ব ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির ক্ষতিকর দিকগুলো থেকে শিশু- কিশোরকে রক্ষা করা।

এ প্রসঙ্গে কিশোর বয়সীদের থেরাপিস্ট এবং শিক্ষক “জো ল্যাংফোর্ড” বলেছেন,

” কোনো দায়িত্ববান অভিভাবক গাড়ির চাবি সন্তানের হাতে দিয়ে গাড়ি চালানো শিখতে বলবেন না।

আমাদের ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও এটি করা উচিত নয়।”

গাড়ির মতো এক্ষেত্রেও আমাদের অর্থাৎ অভিভাবকদের দায়িত্বশীল এবং বিচক্ষণ হতে হবে,

তাদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার ” পরিপক্বতা” , ” দায়িত্বশীলতা” এবং ” ভালো বিচারক্ষমতা ” সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত অভিভাবকদের তাদের সঙ্গে থাকতে হবে।

 

সম্প্রতি প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ম্যাশএবল এক প্রতিবেদনে শিশুকিশোরদের অনলাইন প্রযুক্তি থেকে রক্ষার জন্য বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে।

প্রতিবেদনটির আলোকে জেনে নেয়া যাক গুরুত্বপূর্ণ সে পরামর্শগুলো-

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শগুলোঃ

১. কোন কোন সাইট এবং অ্যাপ আপনাদের সন্তানরা ব্যবহার করছে তা জানুন এবং

তাদের এমন সামাজিক গেইম খেলতে উৎসাহিত করুন , যেখানে ” মতবিনিময়” এবং

” আলোচনার” সুযোগ থাকবে।

২. নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলুন, নিরাপদ ব্রাউজিং করুন এবং সে সম্পর্কে আপনার সন্তানকেও জানান।

পুরনো ফিচারের বদলে নিজেও নতুন ফিচার ব্যবহার করুন এবং আপনার সন্তানকেও নতুন ফিচারের সুবিধা ব্যাখ্যা করুন এবং ব্যবহার করতে বলুন।

৩. আপনি যদি মনে করেন, আপনার সন্তান এখনও অনেক ছোট বা মৌলিক ভালো-মন্দ বোঝার মতো জ্ঞানবুদ্ধি এখনও তার হয়নি,

তাহলে ” ফিল্টারিং” সফটওয়্যার ব্যবহার করুন।

অ্যাপের ব্যবহার সীমাবদ্ধ বা নির্দিষ্ট করে দিন।

৪. আপনার সন্তান ভুল করলে, সে বিষয়টির খারাপ দিকটি সম্পর্কে তাকে বুঝিয়ে বলুন , সে জিনিসটি তার জন্য কতোটুকু ক্ষতিকর তা তুলে ধরুন।

বাসায় পাসওয়ার্ড -নিরাপদ ব্লগ ব্যবহার করুন, নিজে সচেতন থাকুন নানা বিষয়ে, ব্যবহার করুন বিভিন্ন ইন্টারনেট টুল এবং সচেতন থাকতে শিকান।