তোকমা ছোট কালো রঙের একটি বীজ ,যা মূলত বিভিন্ন মিষ্টি পানীয় কিংবা শরবত তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায়ও তোকমার বীজ অন্যতম একটি উপাদান।

এটি স্থানভেদে বিভিন্ন নামে পরিচিত। সবজা বীজ, মিষ্টি বাসিল, ফালুদা বীজ কিংবা তুর্কমারিয়া বা তোকমা বীজ হিসেবে পরিচিত। বহু গুণ রয়েছে এই বীজটির।

চলুন জেনে নেয়া যাক তোকমার নানান গুন সম্পর্কেঃ

১. ওজন কমাতে

দেহের ওজন কমাতে তোকমার জুড়ি নেই। পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলেই বীজটি (তোকমা) ফুলে ওঠে। এরপর সেই পানি কিংবা নানা মসলা দিয়েও তা সুস্বাদু করে পান করা যায়।

তোকমার “ওমেগা থ্রি” ফ্যাটি অ্যাসিড দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এ ছাড়াও এর নানা উপাদান দেহের চর্বি কমাতেও সহায়তা করে।এতে রয়েছে প্রচুর আঁশ, যা বাড়তি ক্ষুধা দূর করে এবং পেট দীর্ঘক্ষণ পরিপূর্ণ রাখে।

২. দেহের তাপ কমায়

তোকমা গরমকালে দেহের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এ কারণেই গরম আবহাওয়ার দেশগুলোতে বহু মানুষ তোকমার শরবত পান করে। এটি সুস্বাদু করার জন্য চিনি, মধু এবং কোথাও কোথাও আবার নারিকেল দুধ দেওয়া হয়।

৩. রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তোকমা।দেহের বিপাকক্রিয়া ধীর করে দেয় তোকমা। এর ফলে কার্বোহাইড্রেটকে গ্লুকোজে রূপান্তরের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। এ কারণে টাইপ টু ডায়াবেটিস যাঁদের রয়েছে, তারা এটি নিয়মিত খেতে পারেন।

৪. কোষ্টকাঠিন্য দূর করে

কোষ্টকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে খুবই কার্যকর তোকমা। সামান্য পরিমান তোকমা অল্প পানিতে ভিজিয়ে রেখে কিছুক্ষণ পর তা দুধে মিশিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যাবে। এটি হজমের সমস্যাও দূর করে।

৫. এসিডিটি দূর করে

তোকমা এসিডিটিও দূর করতে কার্যকর। এটি পেটের এসিড নিয়ন্ত্রণ করে জ্বালাপোড়া দূর করে দেয়। পানিতে সামান্য তোকমা বীজ ভিজিয়ে রেখে পান করতে হবে। তোকমার বীজ পানিতে পরিপূর্ণ থাকে, যা দেহের ক্ষতিকর পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে।

৬. সুস্থ ত্বক ও চুল

ত্বকের নানা সমস্যাতেও তোকমা ব্যবহার করা যায়। কিছু তোকমা বীজ গুঁড়ো করে তা নারিকেল তেলের সঙ্গে মাখিয়ে ত্বকে লাগাতে হয়। এটি নানা চর্মরোগ নিরাময়েও কাজ করে। এটি একজিমা ও সোরিয়াসিস নিরাময়ে কার্যকর ভুমিকা রাখে। সুস্থ চুলের জন্যও এটি নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে।

৭. ঠাণ্ডার সমস্যায়

তোকমার বীজে রয়েছে ঠাণ্ডা প্রতিরোধী উপাদান। এটি আপনার দেহকে ঠাণ্ডার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা বারাতে সহায়তা করবে। সর্দি-কাশি থেকে দূরে থাকতে চাইলে তাই নিয়মিত তোকমা খেতে পারেন।

সতর্কতাঃ

গর্ভবতী নারীদের দেহের ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা অনেক সময় কমিয়ে দিতে পারে তোকমা। তাই গর্ভবতী নারী ও শিশুদের তোকমা খাওয়া উচিত নয়।

ভালোভাবে পানিতে গুলিয়ে না খেলে এটি পেটে ফুলে যেতে পারে। এতে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হতে পারে, এমনকি শিশুদের শ্বাসরোধও হতে পারে।