এই গ্রীষ্মকালে শীতল থাকাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একজন ব্যক্তি যদি তাপমাত্রাকে মানিয়ে চলে তাহলে সে তার শরীরকে স্বাভাবিক ও সুস্থ রাখতে পারবে । আর তার জন্য তাকে সেই সকল বিষয়গুলো সম্পর্কে ভালভাবে জানা অত্যন্ত প্রয়োজন, যাতে করে সে অসুস্থতা থেকে নিজেকে সংরক্ষণ করতে পারেন।

যা যা করতে হবেঃ

শারীরিক পরিশ্রম কম করুনঃ

ব্যায়াম আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপুর্ন । কিন্তু গরমকালে এই ব্যায়াম বেশি করলে আমাদের জন্য কষ্টের কারন হয়।

তাই গরমে সব সময় বেশি ব্যায়াম মোটেই ভাল না।

এতে শরীর থেকে প্রচুর এন্যারজি শেষ হয়। তার ফলে দেহে পানিশূন্যতা দেখা দেয়।

এতে শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাব বেশি থাকে। তাই গরমের দিনে একটু কম ব্যায়াম করতে হবে, সাথে প্রচুর পানি খেতে হবে ।

সকালে বায়ু খুলতে হাঁটতে পারেন। এতে পেট হালকা হয়।

বিশুদ্ধ পানি পান করুনঃ

অত্যধিক গরমে আমাদের শরীর থেকে ঘাম দিয়ে পানি বের হয়ে যায়। তাই গরমের দিনে আমাদেরকে বেশি বেশি পানি পান করতে হবে।

এর ফলে কোষ সজীব থাকবে এবং শরীর শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবে। সাথে সাথে বিভিন্ন ফলের জুস পান করতে হবে। এতে গরমে দেহের প্রশান্তি মেলে।

তরল খাদ্যসমূহ খেতে হবেঃ

গরমের দিনে ভারী খাবার না খাওয়াই উওম। যেমন- মাংস, ডিম এবং ফ্যাট বিভিন্ন খাদ্য। এই খাবার গুলো গরমের দিনে খেলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেইকারনে এই ধরনের খাবার না খাওয়াই ঠিক।

মনকে শীতল করার জন্য তরল খাবার খাওয়া বেশি ভাল। ডাব এবং তরমুজ জাতীও পানি ফল খেতে হবে।

যা শরীর এর জন্য খুবই উপকার। সাথে সাথে হালকা খাবার খেতে হবে।

এতে করে গরম কম অনুভব হবে। হালকা খাবারের মধ্য আছে শাক–সবজি, ছোট মাছ, পাতলা ডাল ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

যা যা মেনে চলতে হবেঃ

হালকা রং এর পোষাকঃ

গরমের দিনে সবারই উচিত হালকা রং এর পোষাক পরিধান করা। কালো রং এর পোশাক এড়িয়ে চলা উচিত।

কারন উজ্জ্বল রং এর পোশাক রোদের তাপ শোষণ করে নেয়, ফলে গরম অনু্ভব বেশি হয়।

তাই সাদা রঙের পোশাক গরমের দিনে বেষ্ট। কারন, হালকা রং এর পোশাক পরলে তাপ বিকরণ করে ফেলে আর এতে গরম লাগে কম ।

আপনাকে অবশ্যই সিন্থেটিক পোষাক এড়িয়ে চলতে হবে। কটন এবং আলগা কাপড় পরতে চেষ্টা করবেন । এতে আপনি আরাম অনুভব করবেন।

সুগন্ধি ব্যবহারে সতর্কঃ

যখন প্রচণ্ড রোদ থাকে, তখন সুগন্ধি ব্যবহার করবেন না। সুগন্ধি শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। তাই এই সময়ে হালকা সুগন্ধি ব্যবহার করা আবশ্যক। গরমে ঘামে দেহের প্রচুর গন্ধ বের হয় ।

তাই গা আগে ভাল করে ভিজা কাপড় দিয়ে মুছে হালকা বডি স্পেরে দিতে হবে বা গোসলের পরে দেওয়া ভাল।

এতে করে দেহ সারাদিন দুর্গন্ধমুক্ত থাকবে।

ধূমপান এড়িয়ে চলুনঃ

যখন আবহাওয়া গরম থাকে তখন ধূমপান সম্পর্কে চিন্তা করারও ঠিক নয় । কারণ ধূমপান দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, ফলে আরও বেশি গরম অনুভব হয়।

দেহকে ঠাণ্ডা রাখুনঃ

দিনে দু’তিনবার গোসল করুন। শরীরে তেলজাতীয় বা তেলতেলে ক্রিম কিছু মাখবেন না। একটু বেশি সময় নিয়ে গোসল করুন।

গরমে ডাক্তারি পরামর্শঃ

বাচ্চা ও বয়স্কদের এই সময়ে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। তাই বাড়ির বাচ্চাদের ও বয়স্কদের নিয়মিত ডাক্তারি পরীক্ষা করাবেন।

সূর্যের আলো কম লাগাবেনঃ

যতক্ষণ বাড়ির বাইরে থাকবেন তখন খেয়াল রাখবেন যাতে সরাসরি সূর্যালোকে বেশি থাকতে না হয়।

ত্বকের যত্ন নিনঃ

সানস্ক্রিন ক্রিম বা লোশন মেখে চলাফেরা করবেন। রোদে বাইরে বেরোলে সানগ্লাস পরে নেবেন। খেয়াল করবেন সানগ্লাসটি যেন চোখের সাথে চমত্কার ভাবে ফিটিং হয়।

ধূসর অথবা সবুজ রঙের কাচ এর চশমা পরুন। বাদামি রঙের কাচ হলে সবচেয়ে ভাল হয়। এই কাচ সূর্যালোক প্রতিহত করে।