দাঁতঃ

দাঁত মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মুখে অবস্থিত একটি অঙ্গ।দাত খাদ্য চর্বণ বা চিবাতে ও কর্তনের (কাটা) কাজে ব্যবহৃত হয়।

অধিকাংশ প্রাণীর দেহে দাঁতই হচ্ছে কঠিনতম অঙ্গ।

দাঁতের প্রকারভেদঃ

১। মোলার বা সাদা বাংলায় কষ দাঁতঃ এটি খাদ্যকে চিবিয়ে পিষে ফেলার কাজে বব্যাবহার হয়।

২। কার্নাসিয়াল দাঁতঃ এটি ব্যবহৃত হয় খাদ্য কর্তনের কাজে। এটি কেবল শ্বাপদ (মাংসাশী) প্রাণীদের মধ্যেই দেখা যায়।

৩। প্রি-মোলার দাঁতঃ এটি মোলার দাঁতের মতই, কিন্তু আকারে ছোট এবং অনেক সময় এদেরকে বাইকাস্পিডও বলা হয়।

৪। শ্বদন্ত বা ক্যানাইনঃ এটি খাদ্য ছিঁড়ে ফেলার কাজে ব্যবহৃত হয়। একে কাস্পিড দাঁতও বলে।

৫। ছেদক দন্ত বা ইন্সিসরঃ এটি খাদ্য ছেদনের কাজে ব্যবহৃত হয়।

ব্রাশ এর যত্নঃ

১। সঠিক টুথব্রাশ বাছাই করুন: যে টুথব্রাশটির শলাকা শক্ত তা পরিহার করতে হবে।

যিকযেক ব্রাশ বেবহার করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যে,অতিরিক্ত শক্ত ব্রাশ আপনার নরম মাড়িকে আঘাত না করতে পারে।

ইলেকট্রনিক ব্রাশও ব্যবহার করা নিরাপদ।

ইলেকট্রনিক ব্রাশের সাহায্যে অতি সহজেই দাঁতের সকল এলাকা বা স্থান থেকে খাদ্য কণা দূর করা যায়।

বিজ্ঞানীরা ইলেকট্রনিক ব্রাশ ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করছেন।

২। সময়: বিজ্ঞানীরা বলেন, প্রতিদিন দুই বেলা ব্রাশ করা তবে তিনবার করতে পারলে অতি উত্তম।

দাঁত ব্রাশ করার জন্য দুই মিনিটই যথেষ্ট সময়।

মুখের ভিতরে বিভিন্ন স্থানকে ৪টি স্তরে ভাগ করা যায় যেমনঃ ডান দিকের উপরে, নীচে এবং বাম দিকের উপর্‌ নীচে ।

প্রতি স্তরের জন্য ৩০ সেকেন্ড সময় নিতে হবে।

অনেকে টিভি দেখতে দেখতে বা গল্প করতে করতে দাত ব্রাশ করেন, তা উচিৎ নয়।

৩। অতিরিক্ত ঘষাঘষি বা শক্তভাবে ব্রাশ না করা:অনেকে ভাবে যে জোরে জোরে এবং শক্তভাবে ব্রাশ দিয়ে দাঁত ঘষলে তাড়াতাড়ি ময়লা দূর হয় ,দাঁত ধবধবে দুধের মত সাদা হয়।

আসলে কিন্তু এই অতিরিক্ত ঘষাঘষির ফলে দাঁতের ক্ষয় হয় এবং এনামেল উঠে যায় ।

অনেকক্ষেত্রে মাড়িও ক্ষয় হয়।

তাই খুব ধীরে ধীরে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। দাঁতের কোনো অংশ বাদ না পড়ে তা খেয়াল করতে হবে।

৪। সঠিক পদ্ধতি : বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রথমে মাড়ির থেকে ৪৫ ডিগ্রী এংগেলে বা কোনাকুনি বসিয়ে সকল জায়গায় ব্রাশ করতে হবে।

দাঁতের বাহিরের অংশ এবং ভিতর দিককার অংশ এবং সেই সাথে জিহ্বার উপরিভাগও ব্রাশ করতে হবে।

দাঁতের কোনো স্থানেই এমনকি জিহ্বাতেও যেনো খাদ্যকণা লেগে না থাকে সেদিকে খেয়াল করতে হবে।

৫। মাঝে মাঝে দাঁত ব্রাশের শুরুটা পরিবর্তন করুন:যদি প্রতিদিন উপরের পাটি থেকে শুরু না করে ভিন্ন সময় ভিন্ন স্থান থেকে ব্রাশ করি তবে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

যেমন আজ উপরের পাটি থেকে শুরু না করে ভিতরের পাটি থেকে ব্রাশ শুরু করতে পারি এবং সামনের পাটির দাঁত ব্রাশ দিয়ে শেষ করতে পারি ।

তাতে অভ্যাস পরিবর্তনের সাথে সাথে সাথে অনেক বেশি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে।

৬। কেমন টুথটেস্ট ব্যবহার করবেন: অনেক সময় আমরা টিভি বা রেডিও বিজ্ঞাপন শুনে বা দেখে টুথপেস্ট ব্যবহার করি এবং ভাবি এগুলো দাঁতকে অনেক ঝকঝকে সাদা করে বা অনেক শিরশির দাঁতকে ভাল করে, আরও নানা বিজ্ঞাপন।

কিন্তু আসলে সব সত্য নাও হতে পারে, তাই আপনার ডেন্টিস্ট এর কাছে জেনে নিন কোন টুথ পেস্ট আপনার জন্য ভালো।

সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে যেকোন ফ্লুরাইড মিশ্রিত টুথপেস্ট নিয়মিত ব্যবহার করা। তবে কয়লা, পাউডার ইত্যাদি উপাদান দাঁতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

৭। অতিরিক্ত সফট ড্রিংকস দাঁতের জন্য ক্ষতিকর: অনেক ধরণের এনার্জি ড্রিংকস, ডায়েট সোডা বা চকলেট, টফি এমনকি স্বাস্থ্যকর পানীয় যেমন আপেল, অরেঞ্জ জুস এবং কফি আপনার দাঁতের এনামেলকে সহজেই ক্ষতিগ্রস্থ করে।

তাই এই জাতীয় খাবার পর দাঁত ব্রাশ করা জরুরী এবং যতোটা পারা যায় এ সব থেকে দূরে থাকতে হবে।

কারণ, টক জাতীয় খাবার দাঁতের এনামেলকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে।

৮। ব্রাশ পরিষ্কার রাখুন: দাঁত ব্রাশের পরে ব্রাশটিকে ভালোভাবে ধুয়ে মুছে রাখতে হবে।

কারণ আপনার মুখের ভিতরের খাদ্যকণা, ময়লা কিন্তু ব্রাশের সাথেই লেগে থাকে এবং পরের দিন সেই ময়লা বা পঁচা খাদ্যকণা দিয়েই আপনি দাঁত ব্রাশ করছেন।

সুতরাং, আপনার টুথব্রাশটিকেও ভালোভাবে পরিষ্কার করার পরে রাখতে হবে। এতে করে আপনি মাড়িকে ও দাঁতকে সুস্থ রাখতে বেশী সক্ষম হবেন।

৯। টুথ ব্রাশটিকে কখনোই বাথরুমে রাখবে না: আমরা অনেক সময় টুথব্রাশটিকে বাথরুমে খোলা ভাবেই রেখে দেই যেটা মোটেও ঠিক না ,স্বাস্থ্যসম্মত নয়।

ব্রাশটিকে সবসময় একটি কৌটোর মধ্যে রাখবেন ।

বাথরুমের সকল ধরণের জীবানু আপনার টুথব্রাশে আশ্রয় নিতে পারে যা মোটেও স্বাস্থ্যের জন্য ভালো দিক নয়।

১০। কতদিন ব্রাশ ব্যবহার করবেন: আমেরিকান ডেন্টাল এসোাসিয়েশন এর মতে,” একটি ব্রাশ তিন থেকে চার মাস ব্যবহার করাই নিরাপদ”।

যখনই শলাকাগুলো নুইয়ে পড়বে বা বাঁকা হয়ে যাবে তখনই ব্রাশটিকে বদলাতে হবে।

কারণ বাঁকা শলাকার টুথব্রাশ সঠিকভাবে খাদ্যকণা পরিষ্কার করতে পারে না যা আপনার জন্য অনেক ক্ষতিকর।