মুখের অবাঞ্ছিত লোম হওয়ার কারন ও দূর করার ঘরোয়া উপায়

বর্তমান সব মেয়েদের একটি কমন সমস্যা হচ্ছে অবাঞ্ছিত লোম। মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করার অনেক ধরণের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বেশিরভাগই বেশ কষ্টদায়ক। অনেক ক্ষেত্রে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকে। মুখের এই অবাঞ্ছিত লোম দূর করার কিছু ঘরোয়া সহজ পদ্ধতি রয়েছে। এই পদ্ধতিগুলো প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয় বলে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

হিরসুটিজম বা অবাঞ্ছিত লোম হওয়ার প্রধান কারণ :

১। নারীর রক্তে পুরুষ হরমোন এন্ড্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে
২। জেনেটিক কারণে এবং
৩। হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে।
যাদের এই সমস্যা আছে লজ্জার কিছু নেই। সুখবর হচ্ছে অবাঞ্ছিত লোম দূর করার জন্য ব্যয়বহুল ও ব্যথাযুক্ত ট্রিটমেন্ট করার পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করেই এই অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। অবাঞ্ছিত লোম দূর করার জন্য প্রাকৃতিক উপাদানগুলো হচ্ছে

১। চিনি ও লেবুর রস

উপকরণ ও পরিমাণই
(ক) দুই টেবিল চামচ চিনি
(খ) লেবুর রস
(গ) আট থেকে নয় টেবিল চামচ পানি
প্রস্তুত প্রণালী
উপকরণগুলো একসাথে মিশিয়ে নিন। এরপর বুদবুদ উঠা পর্যন্ত গরম করে নিন।তারপর ঠাণ্ডা করে ২০ থেকে ২৫ মিনিট মাখিয়ে রেখে দিন। ধোয়ার সময় ঠাণ্ডা পানি দিয়ে বৃত্তাকারে ঘষে তা ওঠাতে হবে।

২। লেবু ও মধু

উপকরণ ও পরিমাণ
(ক) দুই টেবিল-চামচ চিনি
(খ) লেবুর রস
(গ) এক টেবিল-চামচ মধু
প্রস্তুত প্রণালী
উপাদানগুলো একসাথে মিশিয়ে নিন। এখন ৩ মিনিট গরম করে পানি মিশিয়ে পাতলা কিরে নিন। এরপর ঠান্ডা করে নিন। যেখানের লোম তুলতে চান সেখানে প্রথমে কর্নস্টার্চ(ভুট্টার দানা রিফাইন্ড করে এটি তৈরি করা হয় যা অনেকটা কর্নফ্লাওয়ার এর মত) মাখিয়ে নিন। এরপর কর্নস্টার্চের উপর মিশ্রণটি লাগিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণ লাগতে হবে লোম যেদিকে বের হচ্ছে সেদিকে।পরে সুতি কাপড়ের সাহায্যে লোমগুলো টেনে তুলে নিতে হবে। টান দিতে হবে লোম যেদিকে বের হচ্ছে তার উল্টো দিকে।

৩। ওটমিল ও কলা

উপকরণ ও পরিমাণ
(ক) দুই টেবিল-চামচ ওটমিল
(খ) একটি পাকা কলা
প্রস্তুত প্রণালী
উপকরণগুলো মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন।অবাঞ্ছিত লোম থাকা অংশে ১৫ মিনিট পেস্টটি মালিশ করে নিন। পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৪। আলু ও মসুর ডাল

উপকরণ ও পরিমাণ
(ক) এক টেবিল-চামচ মধু
(খ) লেবুর রস
(গ) পাঁচ টেবিল-চামচ আলুর রস
(ঘ) মসুর ডালের পেস্ট (মসুর ডাল সারারাত পানিতে ডুবিয়ে রেখে এই পেস্ট তৈরি করতে হবে)
প্রস্তুত প্রণালী
উপকরণটি ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।এবার মিশ্রণটি যে স্থানের লোম তুলতে হবে সেখানে ২০ মিনিট মাখিয়ে রাখুন। এরপর পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। মিশ্রণটি ত্বকের পাতলা এবং শক্ত আস্তর ফেলবে যা লোম তুলে আনতে সহায়ক।

৫। ডিম ও কর্নস্টার্চ

উপকরণ ও পরিমাণ
(ক) এক টেবিল-চামচ কর্নস্টার্চ
(খ) চিনি
(গ) ডিমের সাদা অংশ
প্রস্তুত প্রণালী
উপকরণটি একসাথে মিশিয়ে নিন। এরপর এই মিশ্রণটি অবাঞ্ছিত লোমযুক্ত অংশে মাখিয়ে রাখুন।শুকিয়ে গেলে তুলে ফেলুন।ডিমের সাদা অংশ আঠালো, তাই এটি চিনি ও কর্নস্টার্চের সঙ্গে মিশিয়ে মাখলে ত্বকের উপর পাতলা আস্তর ফেলবে। যাদের ব্রণের সমস্যা আছে তাদের জন্য এ পদ্ধতি নয়।

৬। ময়দা ও দই এর প্যাক

উপকরণ ও পরিমান
(ক) ময়দা ২ টেবিল চামচ
(খ) দই ১ টেবিল চামচ
(গ) লেবুর রস ১ চা চামচ
(ঘ) হলুদ ১ চিমটি

প্রস্তুত প্রণালী
ময়দা ও দই-এর এই প্যাকটি ত্বকের লোমের রঙের পরিবর্তন করে এবং ওঠার পরিমাণ কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। একটি বাটিতে এই সব উপাদান নিয়ে খুব ভালো করে মিশিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন মিশ্রণটি যেন খুব পাতলা না হয়। থকথকে ঘন হলে ভালো কাজে দেবে। এরপর মিশ্রণটি মুখে লাগান। বিশেষ করে নাকের নিচে ও থুতনিতে এবং কপালে। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত মুখে লাগিয়ে রাখুন। তারপর পানি দিয়ে ভালো মতো ঘষে মুখ থেকে তুলে ফেলুন। সপ্তাহে ৩/৪ দিন এই প্যাকটি লাগানোর চেষ্টা করবেন। কিছুদিনের মধ্যেই অবাঞ্ছিত লোম দূর হবে।

৭। কফি স্ক্রাব

উপকরণ ও পরিমাণ
(ক) চিনি ১ টেবিল চামচ
(খ) মধু ১ টেবিল চামচ
(গ) কফি ২ টেবিল চামচ
(ঘ) লেবুর রস কয়েক ফোটা

প্রস্তুত প্রণালী
কফির স্ক্রাব সব চাইতে বেশী কার্যকরী একটি উপায় মুখের লোমের হাত থেকে রক্ষা পেতে। ক্যাফেইন ত্বকের গভীরে ঢুকে লোম দূর হতে সাহায্য করে। একটি বাটিতে প্রথমে কফি ও চিনি মিশিয়ে নিন। এতে মধু ও লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মেশান। কফি ও চিনি পুরো পুরি গলবে না। এরপর এই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে খানিকক্ষণ ম্যাসাজ করুন ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে। ৫ মিনিট ম্যাসাজ করে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহারে অনেক ভালো ফলাফল পাবেন।