সুন্দর ত্বক পেতে ত্বকের যত্ন নিতে হয় তেমনি সুস্থ, সুন্দর ও ঝলমলে চুলও পেতে হলে চুল এর পরিচর্যা করা দরকার। সুন্দর ড্রেস আর জুতার সঙ্গে নিজেকে সাজাতে ঝলমলে ও সুন্দর চুলের জুড়ি নেই বললেই হয়।চুল বাধা সুন্দর হলে আপনাকে দেখতে সুন্দর লাগবে অতুলনীয়। সুন্দর চুলের আকাঙ্ক্ষা নেই, এমন মানুষ পাওয়া দুস্কর।

তবে বিভিন্ন কারণে চুল মলিন হয়ে পড়তে পারে। চুল নারী সৌন্দর্যের একটি অন্যতম নিদর্শন। সঠিক পরিচর্যা না করলে চুল ধীরে ধীরে তার সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলে হয়ে যায় মলিন ও রুক্ষ । তাই সব ঋতুতে চুলের যত্ন নিতে কিছু অত্যাবশ্যকীয় বিষয় মনে রাখা খুবই জরুরী।

স্বাস্থ্যজ্জ্বল, সুন্দর ও আকর্ষণীও চুল পেতে চাইলে যা করতে হবে, তা হলো-

চুল পরিষ্কার:

১।কমপক্ষে তিন দিন পর পর চুল পরিষ্কার করতে হবে শ্যাম্পু দিয়ে, তা না হলে ত্বকে ময়লা জমে খুশকি হতে পারে।

২। চুল অতিরিক্ত ধোয়া ঠিক নয়, এতে করে মাথার ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল নিঃসরিত হয় ও চুল চিটচিটে হয়ে যায়।

৩। চুলের জন্য উপযোগী নির্দিষ্ট একটি শ্যাম্পু নির্দিষ্ট করুন, তা যেন অবশ্যই আপনার চুলকে কার্যকর ভাবে পরিষ্কার করে। চুলকে নরম, মসৃন ও ময়েশ্চারাইজ করে এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন সবসময়।

৪। শ্যাম্পু করার পূর্বে সম্পূর্ন চুল পানিতে ভিজিয়ে ভাল করে নিন, এরপর শ্যাম্পু দিন। ধীরে ধীরে শ্যাম্পু পুরো চুলে এবং মাথার ত্বকে মেখে নিবেন।

তারপর ভালো ভাবে ধুয়ে ফেলুন। খেয়াল রাখবেন শ্যাম্পুর ফেনা যেন চুলে বা মাথার ত্বকে লেগে না থাকে। মাথার ত্বক পরিষ্কারের জন্য আঙ্গুল ব্যবহার করুন, নখ নয়। চুল বেশি ঘসবেন না, ত্বক ঘসবেন একটু একটু করে পানি নিয়ে।

৫।প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর একটি ভালো মানের কন্ডিশনার ব্যবহার করলে ভাল হয়।

কন্ডিশনার চুলকে ভেঙ্গে যাওয়া ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। চুলকে জটহীন, নরম, মসৃণ ও আকর্ষনীয় করে তুলতে কন্ডিশনার এর জুরি নেই।

মাথার ত্বক ম্যাসাজ:

৬।প্রতিদিন কিছুক্ষণ সময়ের জন্য হলেও আপনার মাথার ত্বক ম্যাসাজ করুন।

ফলে মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাবে, ত্বকের মৃত কোষ ও খুশকি দূর হবে । এবং নতুন নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।

৭।চুলের মলিনতা ও রুক্ষতা দূর করতে সপ্তাহে অন্তত একদিন চুলে উষ্ণ তেল ম্যাসাজ করুন। এটি চুল ঝরে যাওয়া থেকে প্রতিরোধ করে।

নারকেল, জলপাই অথবা বাদাম তেল হালকা গরম করে আঙ্গুলের সাহায্যে পুরো মাথায় চুলের গোরায় চক্রাকারে ম্যাসাজ করুন। কয়েক ঘন্টা বা পুরো রাত রেখে তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

মোটা দাঁতের চিরুনি:

৮। মোটা দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে নরম দাঁতের চিরুনি ব্যাবহার করুন।

স্কার্ফ বা ওড়না:

৯। ঘরের বাইরে যাওয়ার আগে চুলে একটি স্কার্ফ বা ওড়না পেচিয়ে নিন। এতে করে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি চুলের স্বাভাবিক রঙ ও উজ্জ্বলতা নষ্ট করবে না। এটি আপনার চুলকে ধূলো ও ক্ষতিকর রশ্মি থেকেও রক্ষা করবে।

ধরন অনুযায়ী যত্নঃ

১০। চুলের ধরন যদি তৈলাক্ত হয়, শ্যাম্পু করার পর এক মগ পানিতে খানিকটা লেবুর রস ।অথবা খানিকটা ভিনেগার মিশিয়ে পুরো চুল ধুয়ে নিবেন। এতে চুল ঝলমলে ও উজ্জ্বল দেখাবে।

১১। যাদের নিয়মিত সুইমিং পুলে সাঁতারের বা ব্যায়াম করার অভ্যাস আছে, তারা নিয়মিত চুলে শ্যাম্পু করবেন। এক্ষেত্রে আপনি একটি হালকা শ্যাম্পু বেঁছে নিন ।

যেন তা আপনার চুলকে ভাল ভাবে পরিষ্কার করে ও ময়েশ্চারাইজ করে। শ্যাম্পু করার পর একটি ভালো মানের হালকা কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন।

স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রাখতেঃ

১২। চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে সপ্তাহে যেকোনো এক দিন আপনার চুলের ধরন উপযোগী একটি হেয়ার প্যাক ব্যবহার করুন।

খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমঃ

১৩। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। আপনার চুলের সঠিক সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য এটি হবে সর্বোচ্চ উত্তম উপায়।

বর্জন করুন

১। চুলে অতিরিক্ত চিরুনি করা বা ব্রাশ করা থেকে বিরত থাকুন। যেমন তেমন চিরুনি না নিয়ে ভালমানের চিরুনি ব্যাবহার করুন।

২। চুলে কখনই সাবান ব্যবহার করবেন না। সাবানের ক্ষার চুলকে রুক্ষ করে। শ্যাম্পুই উৎকৃষ্ট ছুলের জন্য।

৩। কন্ডিশনারযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। এটি চুলকে ময়েশ্চারাইজ করে। আর অবশ্যই শ্যাম্পু করার পর আলাদা করে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে একদম ভুলবেন না।

৪। চুলের ধরন তৈলাক্ত হলে হালকা ধরনের কন্ডিশনার ব্যবহার করাই ভালো। মাথার ত্বকে কন্ডিশনার একদম ব্যবহার করা উচিত নয়।

৫।শ্যাম্পু করার পর বা চুল ভেজা থাকা অবস্তায় চুলে চিরুনি করা বা ব্রাশ করা থেকে বিরত থাকুন। এতে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায় ও চুল পড়তে থাকে।

৬। স্বাভাবিক উপায়ে চুল শুকাতে হবে। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করবেন না।ফ্যান এর বাতাসে চুল শুকানোই উত্তম।