চুল একজন নারীর সুন্দর প্রকাশের অন্যতম জিনিষ। অনেকের কোঁকড়া চুল নিয়ে অনেক সময় নানা ঝামেলায় পরতে হয় । অনেক সময় নিজেও অস্বস্তি বোধ করে। বা অনেকে একটু বারতি সুন্দর হওয়ার জন্য বা নিজেকে আকর্ষণীয় করার জন্য চুল সোজা করতে চান। তখনি অনেকে পরেন নানা ঝামেলায়। তাই সেই সব ঝামেলা এড়িয়ে সহজ কিছু কৌশল দেয়া হল কোঁকড়া চুল সোজা করার।

প্রাকৃতিক উপায়ে চুল সোজা করার কিছু কৌশলঃ

১. নারকেল এবং লেবুঃ

একটি ভাল দেখে তাজা নারকেলের দুধের সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ভালো ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।

এই মিশ্রণটিকে কয়েক ঘণ্টা ধরে ফ্রিজে রেখে সংরক্ষন করতে হবে।

ফ্রিজ থেকে বের করলে একটি ঘন ক্রিমি লেয়ার দেখা যাবে পাত্রের উপরে।

এই লেয়ারটা দিয়ে চুল সোজা করার কাজে ব্যাবহার হবে।

পুরো চুলে এই লেয়ার লাগাতে হবে এবং স্কাল্পেও লাগাতে হবে। ১৫-২০ মিনিট ধরে চুলকে স্টিম করুন।

সব শেষে চুল ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত করতে থাকলে ধীরে ধীরে আপনার চুল সোজা হতে শুরু করবে।

২. ক্যাস্টর অয়েলঃ

ক্যাস্টর অয়েলে প্রচুর পরিমানে চুলের গ্রোথ আর চুল সোজা করার গুনাগুণ আছে।

ক্যাস্টর তেল চুলের স্কাল্পে ভালো ভাবে ম্যাসাজ করুন।

তারপর চিরুনি দিয়ে চুল ভাল্ভাবে আঁচড়াতে থাকুন। চুল যখন আঁচড়াবেন তখন ব্লো ড্রাই করতে হবে হাই হিটে।

খেয়াল রাখবেন যে,ব্লো ড্রাই করার পর চুলে যেন তেলতেলে ভাব না থাকে।

চুল হতে হবে শুষ্ক । তারপর একটি ভেজা তোয়ালে দিয়ে সমস্ত চুল জড়িয়ে রাখুন আধা ।

এটা চুলকে অতিরিক্ত হিট থেকে soothe করবে এবং স্ট্রেইটনেস বজায় থাকবে।

৩. বানানা হেয়ার প্যাকঃ

দুটি পাকা ম্যাসড কলার সাথে দুই টেবিল চামচ মধু, দই এবং অলিভ অয়েল আর ১টি ডিমের সাদা অংশ ভালকরে মেশান।

এই প্যাক পুরো চুলে সুন্দর করে লাগিয়ে মাথায় একটি শাওয়ার ক্যাপ পরে থাকুন।

তারপর ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এভাবেই আপনার চুল অনেকটা সোজা হবে।

৪. ফুলারস আর্থঃ

ফুলারস আর্থ বা মুলতানি মাটি আমরা কম বেশি সবাই চিনি। কিন্তু এতো দিন এটি ত্বকের ডীপ ক্লিনজিং এর জন্য ব্যবহার করা হয় । কিন্তু এটি যে চুলের যত্নেও অনন্য তা কমই জানি।

এক কাপ মুলতানি মাটির সাথে একটি ডিমের সাদা অংশ, দুই চামচ চালের গুঁড়ো আর পানি ভাল করে মিক্স করুন।

মিশ্রণটি অনেক পাতলা হতে হবে যাতে করে সমস্ত চুল কোট করা যায়। মিক্সটি চুলে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা রাখুন ।

এবং মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল ভাল করে আঁচড়াতে থাকুন । সপ্তাহে ২-৩বার এটি করবেন।

খেয়াল করলেই দেখবেন যে আপনার চুল আস্তে আস্তে কোঁকড়া চুল থেকে কেমন সোজা হয়ে আসছে।

অনেকে আবার যাদের অনেকের সিল্কি চুল রয়েছে তারা স্টাইল করার জন্য কোঁকড়া করে থাকেন। তারাও এটা করতে পারেন।