চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস অনেক দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। “কভিড-১৯” বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া করোনা ভাইরাস ডিজিজ-২০১৯ এর অফিশিয়াল নাম।বিভিন্ন ভাবে এই ভাইরাস চারিদিকে দিনে দিনে ছড়িয়ে পরছে এবং মহামারিতে রুপ নিচ্ছে। এই ভাইরাস বিভিন্ন ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন ভাবে, যেমনঃ সংস্পর্শের মাধ্যমে,হাঁচি, কাশি, লালা বা থুতু,হাঁচি, কাশি, লালা বা থুতু, আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার সময়, টাকা লেনদেনের সময় ও আরও অনেক ভাবে।

টাকার মাধ্যমে কিভাবে ভাইরাস ছড়ায় ও কিভাবে এর সংক্রমণ এরিয়ে চলবেন তা জানাবো।

ব্যাংক নোট বা টাকায় বা মুদ্রায় নানা ধরণের জীবাণুর উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। এমনকি ব্যাংক নোটের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রামক নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ার কথাও বলেন বিশেষজ্ঞরা।যেমনঃ

বাংলাদেশের একদল গবেষক গত বছরের অগাস্ট মাসে বলেছিলেন যে, তারা বাংলাদেশি কাগজে নোট ও ধাতব মুদ্রায় এমন ধরণের ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পেয়েছেন, যা সাধারণত মলমূত্রের মধ্যে থাকে।আবার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের ছাত্রী নিশাত তাসনিম প্রায় ছয় মাস ধরে বাজারের প্রচলিত টাকা ও কয়েন নিয়ে গবেষণা করে বলেন, এসব মুদ্রায় তিনি “ই-কোলাই” জাতীয় ব্যাকটেরিয়া পেয়েছেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বিবিসিকে বলেছিলেন, “এ পরীক্ষায় আমরা যা পেয়েছি তা জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে ভয়াবহ। কারণ সাধারণ ব্যাকটেরিয়া তো আছেই, সাথে পাওয়া গেছে মানুষের মল মূত্র থেকে আসা ব্যাকটেরিয়া, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক”।

ড. চৌধুরী আরও বলেন যে, যেহেতু আমরা গবেষণা করে টাকায় বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়া পেয়েছি যা মানুষের অন্ত্রে নানা ধরণের রোগ সৃষ্টি করে তাই এর মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়াটাও অস্বাভাবিক নয়।আর তাই বিশ্বজুড়ে এমন আশঙ্কার পর বিশেষজ্ঞরা, ব্যাংক নোট এড়িয়ে স্পর্শবিহীন মাধ্যম বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কেনাকাটা বা লেনদেন করার পরামর্শ দিচ্ছেন।স্পর্শবিহীন লেনদেন বা প্রযুক্তি অর্থাৎ ব্যাংক নোট ছাড়া অন্য মাধ্যম যেমন কার্ড, বিভিন্ন ধরণের অ্যাপ যেমন বিকাশ রকেট বা নগদ অথবা অন্য কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে লেনদেন করতে বলা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ যেখানে প্রায় শতভাগ লেনদেন হয় ব্যাংক নোটের মাধ্যমে, সেখানে কিভাবে এই পরামর্শ বাস্তবায়ন সম্ভব?

 

এক্ষেত্রে কিছু পরামর্শের কথা বলছেন জাতীয় রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান:

১।অবশ্যই টাকা গোনার সময় হাত দিয়ে মুখের লালা নেয়া যাবে না।

২।ব্যাংক নোট বা টাকা নাড়াচাড়ার পরপরই অবশ্যই সাবান দিয়ে ভাল করে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে।

৩।যারা মুদ্রা নাড়াচাড়া করেন, যেমন ব্যাংক কর্মী বা মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীরা, তাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে। তারা দস্তানা বা গ্লাভস পরবেন।

৪।হাতের কাছে সবসময় জিবানু নাশক রাখতে হবে।

৫।সতর্কতা হিসেবে হ্যান্ড স্যানিটাইজারও ব্যবহার করবেন। যাতে করে সহজে জিবানু মুক্ত করা যাবে হাত।

৬।টাকা ধরা বা ব্যবহারের পর পরই চোখ, নাক বা মুখে হাত দেয়া যাবে না কোন ভাবেই।