মাস্ক পরে কি ভাইরাস ঠেকানো যায়?

ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া বা যেকোনো খবরের জন্য মাস্ক বা মুখোশ পরা কোন মানুষের মুখচ্ছবি হতে পারে সহজ উপায়।বিশ্বের সব দেশেই সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য জনপ্রিয় ব্যবস্থা হচ্ছে মাস্ক বা মুখোশ এর ব্যবহার।যা খুব সহজেই ভাইরাস এর সংক্রমণ ঠেকানো না গেলেও লাঘব করা যায়।

বিশেষ করে চীনে অর্থাৎ যেখান থেকে শুরু হয়েছে করোনাভাইরাস, সেখানেও মানুষ বায়ু দূষণের হাত থেকে বাঁচতে হরহামেশা নাক আর মুখ ঢাকতে মুখোশ পরে ঘুরে বেড়ায়।ভাইরোলজিস্ট অর্থাৎ যারা ভাইরাস বিশেষজ্ঞ তারা যথেষ্টই সংশয়ে আছেন যে, বায়ুবাহিত ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এই মাস্ক কতটা কার্যকর সে ব্যাপারে।

আসলেই কি মাস্ক পরে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো যায়?

তবে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো না গেলেও এর হাত থেকে মুখে সংক্রমণ ঠেকাতে এই মাস্ক ব্যবহার করে সুফল পাওয়ার কিছু নজির আছে।সার্জিক্যাল মাস্কের চল শুরু হয় আঠারো শতকে।তবে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে সেন্ট জর্জেসের ডঃ ডেভিড ক্যারিংটন বিবিসিকে বলেন যে, “সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক বায়ুবাহিত ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে যথেষ্ট নয়”।

তিনি আরও বলেন যে”বেশিরভাগ ভাইরাসই বায়ুবাহিত। এবং এই মাস্কগুলো ঢিলেঢালা থাকে। আর তাই এটা বায়ুকে ফিল্টার করতে পারেনা ঠিকঠাক মত। আর যিনি এই মাস্ক ব্যবহার করেন, তার চোখ থাকে উন্মুক্ত।তবে হাঁচি বা কাশি থেকে ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সাহায্য করে এই মাস্ক। আর হাত থেকে মুখের সংক্রমণের বিরুদ্ধেও কিছু সুরক্ষা এটা দেয়।

২০১৬ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি সমীক্ষায় অনুযায়ী, “মানুষ প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ২৩ বার হাত দিয়ে মুখ স্পর্শ করে।”

মাস্ক ব্যবহারের নিয়ম

মাস্ক পরার আগে করণীয়

ভালো করে হাত-মুখ ধুয়ে নিতে হবে। অ্যালকোহল বেসড হ্যান্ডওয়াশ বা পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মেশানো পানি ও সাবান দিয়ে ভাল করে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

মাস্ক পরার পর করণীয়

মাস্ক পরার পরে যেন নাক, মুখ ভাল ভাবে ঢাকে তা দেখতে হবে। পরার পর বার বার মাস্কে হাত দেয়া যাবে না। বার বার হাত দিলে মাস্কে আটকে থাকা জীবাণুরা হাতে লেগে যাবে। আবার সেই হাত থেকেই নাক-মুখের মাধ্যমে অসুখ ছড়িয়ে যেতে পারে। এতে করে কাজের কাজ কিছুই হবে না।

মাস্ক খোলার সময় করণীয়

মাস্কের উপরের তলে হাত দিয়ে বা সামনের দিকে ধরে বা টেনে মাস্ক খুলা যাবে না। এতে করে মাস্কের জীবাণু হাতে লেগে যাবে। আবার পুনরায় হাতে থাকা জীবাণু লেগে যাবে মাস্কে। পিছন দিক থেকে মাস্কের দড়ি বা ইলাস্টিক ব্যান্ড টেনে মাস্ক খুলতে হবে। এতে করে হাতের জীবাণু দড়িতে লাগলেও তা মুখের কাছাকাছি এসে সংক্রমণ হতে পারবে না। মাস্ক খোলার পর অবশ্যই ভালো করে আবার সাবান ও হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত-মুখ ধুতে হবে।