রমজানে সারাদিন রোজা রাখার ফলে ত্বক কিছুটা প্রাণহীন ও নিস্তেজ হয়ে পরে। পানির অভাবে ত্বক ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়। রমযান মাসে সিয়াম সাধনার পাশাপাশি এ সময় প্রয়োজন ত্বকের বিশেষ যত্নের। তাই সিয়াম সাধনার পাশাপাশি সহজেই ঘরোয়া ভাবে ত্বকের যত্নের কিছু কার্যকরী টিপস দেয়া হলঃ

ব্রণ দূর করার কাজ:

সারাদিন রোজা রেখে ইফতারিতে সবাই মুখরোচক খাবার যেমন ভাজা ও তইলাক্ত খাবার বেশি খাওয়া হয়। তাই অনেক বেশি ভাজা খাবার খাওয়ার ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।

এর ফলে ত্বকে ব্রণ হয়। ত্বক হয়ে যায় নিস্তেজ ও প্রাণহীন। কাঁচা হলুদ ও চন্দনকাঠের গুঁড়া ব্রণের জন্য খুবই কার্যকর উপাদান।

সমপরিমাণ কাঁচা হলুদ বাটা ও চন্দন কাঠের গুঁড়া একসাথে নিয়ে পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।

মিশ্রণটি ব্রণ আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর শুকিয়ে গেলে মুখ নরমাল পানি দিয়ে ভিজিয়ে আলতো করে ধুয়ে ফেলুন।

এই মিশ্রণ শুধু ব্রণ দূর করার কাজই করে না বরং সাথে সাথে ব্রণের দাগ দূর করতেও সাহায্য করে।

রোজা রাখার পরও ত্বকের জেল্লা বাড়বেঃ

কমলালেবুর খোসা ভাল করে রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে নিন। মসুরির ডাল আর চাল ভিজিয়ে খুব ভালো করে পিষে নিন।

এবার এই পেস্টের মধ্যে চন্দন পাউডার, মুলতানি মাটি, কমলালেবুর খোসার গুঁড়া সব একসাথে মিশিয়ে ভালো করে মিলিয়ে নিন।

আপনি চাইলে এই মিশ্রণের মধ্যে দুই চামচ দুধও মিশাতে পারেন। মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে নিন।

প্যাকটি নিয়মিত মুখে লাগান। তাহলে সারাদিন রোজা রাখার পরও ত্বকের জেল্লা বাড়বে।

ত্বক ফেটে যাওয়া থেকে রক্ষা করেঃ

সারাদিন রোযা রাখার ফলে শরীরে পানিশূন্যতার দেখা দেয়। এর কারণে এসময় ত্বকের আর্দ্রতা কমে গিয়ে ত্বক প্রাণহীন ও শুষ্ক হয়ে পড়ে।

তাই এই সময় ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম বা লোশন ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে পারেন।

যাদের ত্বক সাধারণ বা তৈলাক্ত তারা ওয়াটার বেইজড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন ।

যাদের ত্বক শুষ্ক তারা ওয়াকস বা ইমোলিয়েন্ট সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন।

এগুলো ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা জোগায় এবং ত্বক ফেটে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে। আপনাকে দিবে সতেজ ও প্রানবন্ত ত্বক।

টোনারঃ

রমজান মাসে সব রকমের টোনার জাতীয় প্রসাধনী এড়িয়ে চলাই উত্তম। এই ধরনের প্রসাধনী বেশি ব্যবহারে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে পরে। এসময় ঠোঁট অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ফেটে যায়।

তাই রাতে ঘুমাবার আগে অবশ্যই ঠোঁটে ভালো করে ভ্যাসলিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি দিয়ে ঘুমাতে যাবেন।

বেশি শুষ্ক ত্বক যাদের তারা ঠোঁটের যত্নে হালকা গরম নারিকেল তেল ম্যাসাজ করে লাগান।

ত্বক রাখতে হবে পরিষ্কারঃ

এসময় ত্বক রাখতে হবে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন। নিয়মিত স্ক্রাবিং করা ত্বককে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

পাকা পেঁপে ভাল করে চটকে নিন এক কাপ। এর সাথে এবার মেশান এক টেবিল চামচ পাতিলেবুর রস এবং পরিমান মত চালের গুঁড়া।

মিশ্রণটি মুখসহ পুরো শরীরে ভাল করে লাগান। ২০-২৫ মিনিট ধরে ম্যাসাজ করে গোসল করে ফেলুন।

আপনি পেঁপে ছাড়াও ব্যবহার করতে পারেন অ্যালোভেরার রস।

ফেসপ্যাক লাগান নিয়মিতঃ

কাঠবাদাম বাটা, ঠাণ্ডা দুধ ও গোলাপজল দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক নিয়মিত ব্যবহার করবেন। এটি শুষ্ক ও পানিশূন্য ত্বকের জন্য খুবই উপকারী প্যাক ।

মুখের সাথে সাথে শরীরেরও যত্ন নিন। নিয়মিত ত্বকের উপযোগী অনুযায়ী ভালো কোনো বডি লোশন ব্যবহার করুন।

ফেসিয়ালঃ

রোজায় শুষ্ক ও নিস্তেজ ত্বকের যত্নে ফেসিয়াল খুব উপকারী। বাসায় বসে অনেক সময় ফেসিয়াল ঠিকভাবে করা যায় না।

তাই ভালো কোন পার্লারে গিয়ে বিউটি এক্সপার্টের পরামর্শ নিয়ে ত্বকের ধরন বুঝে ফেসিয়াল করা ভাল।

এ সময় ফ্রুইত বা ফলের ফেসিয়াল ও পার্ল ফেসিয়াল ত্বকের জন্য খুবই ভালো।

আপেলের রসঃ

আপেলের রস খুবই উপকারী। এটি সব ধরনের ত্বকের জন্যই ভালো। আপেল কুরিয়ে তার সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে পারেন ।

অথবা আপনি চাইলে সরাসরি আপেলের রস ত্বকে লাগাতে পারেন। এটি সপ্তাহে দুই থেকে ৩ দিন ব্যবহার করলে বেশ ভালো ফল পাওয়া যাবে।

ত্বকের শুষ্কতায় সহজ ঘরোয়া প্যাকঃ

টমেটো, কলা, শসা একসঙ্গে মিলিয়ে প্যাক তৈরি করুন।তার পরে ইফতারের ঘণ্টাখানেক পর ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

আপনি চাইলে মালটার রসও সপ্তাহে ৪-৫ দিন ত্বকে লাগাতে পারেন।যাদের ত্বক শুষ্ক তারা ত্বকের শুষ্কতা কাটাতে চাইলে সপ্তাহে ৪ দিন টমেটোর রস লাগাতে পারেন।

এটি নিয়মিত করলে দেখবেন ত্বকের শুষ্কতা কেটে যাবে।

যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা সপ্তাহে ২ দিন এই ঘরে বানানো প্যাক লাগাবেন।

শসা, গাজর, পুদিনা পাতার রস ও মসুর ডাল বাটা একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে লাগাতে পারেন।

২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ভালভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।যাদের ত্বক মিশ্র তারা বেসন দিয়ে মুখ ধুলে বেশ উপকার পাবেন।

যাদের ত্বক স্বাভাবিক তারা সহজেই রান্নাঘরের কাজ করতে করতে ডালের পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন।

আবার আলু কেটে তার রস মুখে লাগাতে পারেন। ডাবের পানি দিয়েও মুখ ধুতে পারেন।