অনেক মানুষ আছেন যাদের কপাল অনেক বড় থাকে এবং তাঁরা তাঁদের এই বড় কপাল ঢাকার জন্য বিভিন্ন রকম হেয়ার কাট দিয়ে থাকেন। কপালে চুল কম থাকলে কপাল বড় ও চ্যাপ্টা দেখায়। যা মুখের স্বাভাবিক গড়ন বা সুন্দর এর বাঁধা হয়ে দারায়।যদি ঘরোয়া উপায়ে প্রাকৃতিক ভাবেই আবার সেই চুল গজানো যায় বা চুল ফিরে পাওয়া যায় তাহলে অনেক টাকা খরচ করে হেয়ার ট্রিটমেন্ট কেন করবেন বলেন তো? আসুন জেনে নেই কিভাবে ঘরোয়া উপায়ে কপালের চুল গজানো যায়।

সাধারণত হরমোনের পরিবর্তন, জেনেটিক কারণ বা পুষ্টির অভাবে চুল পড়ার সমস্যা হয় । চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে অ্যালোপেসিয়া । কপালের সামনের দিক থেকে চুল ওঠা শুরু করে আস্তে আস্তে পেছনের দিকে যেতে শুরু করে এবং একসময় মাথায় টাক পড়ে।

কপালের আশেপাশে চুল কমে যাওয়া রোধ করবেন যেভাবে

১। অয়েল ম্যাসাজ

চুলের বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে অপরিহার্য হচ্ছে ওয়েল ম্যাসাজ। নারিকেল তেল বা আমন্ড তেল হালকা গরম করে ম্যাসাজ করলে চুল বৃদ্ধি পায়। এতে চুল শক্তিশালী ও পুষ্টি সমৃদ্ধ হয়।তেলই চুলের খাদ্য, তাই তেলে পর্যাপ্ত তেল দিতে হবে খেয়াল করে।

২। মেহেদি

হেনা প্যাক (মেহেদির সাথে আমলা, শিকাকাই ও ব্রাহ্মী মেশানো ) দই এর সাথে মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করুন ।আবার মেহেদি পাতার সাথে গোলাপ ফুল ও মেথি মিশিয়ে চুলে ব্যাবহার করতে পারেন।

৩। গ্রিনটি ও ডিমের মাস্ক

গ্রিনটি ও ডিমের মাস্ক ব্যবহার করলে চুল পড়া বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে চুল নরম, কোমল ও উজ্জ্বল হয়। ডিমের কুসুমের সাথে ২ টেবিল চামচ গরম গ্রিনটি ভাল করে মেশান। যতক্ষণ না পর্যন্ত একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি হয়। মিশ্রণটি মাথায় দিয়ে ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। গ্রিনটির অ্যান্টি অক্সিডেন্ট চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে এবং ডিম চুলকে মসৃণ করে।

৪। টাইট করে চুল বাঁধবেন না

চুল কখনই খুব শক্ত করে বাঁধবেন না বা পনিটেইল করবেন না। এতে চুলের ফলিকল নষ্ট হয়ে যায় । চুলের উপর বেশি চাপ পড়লে চুল পড়া বৃদ্ধি পায় এবং নতুন চুলের বৃদ্ধি বাঁধা প্রাপ্ত হয়। তাই যতটা সম্ভব চুল খোলা রাখার চেষ্টা করুন বা ঢিলা করে বাধুন। বা আমন করে বাধুন যাতে চুল আ তান না লাগে।

৫। পুষ্টিকর খাবার খান

চুল পড়া বন্ধ করতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন । আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেলে চুল পড়া বন্ধ হয় ও চুলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ খাবার এবং ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৬ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাদ্য হেয়ার ফলিকল কে পুষ্টি প্রদান করে চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৬। স্ট্রেস কমাতে হবে

চুল পড়ার জন্য আসলে স্ট্রেস অনেকাংশে দায়ী। আপনি যদি স্ট্রেসের সমস্যায় ভোগেন তাহলে স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা করতে হবে ।পরিমিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ ও নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের পুষ্টির ভারসাম্য ঠিক থাকবে। স্ট্রেস কমবে এবং চুলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে ও চুল শক্তিশালী হবে।