করোনা ভাইরাস কি শুধু জামা কাপড়েই আর হাতে আটকায়?

আমরা সবাই জানি যে,তিন থেকে চার ফুট দূরে থাকলে ভাইরাস গায়ে লাগে না। ছয় ফুট দূরে থাকলে হাঁচি কাশির মাধ্যমে ভাইরাস ছরায় না।

শুধু কি এইটুকুই সাবধানতা অবলম্বন করলেই করোনা ভাইরাস থেকে দূরে থাকা যাবে? যাবে না। করোনা ভাইরাস থেকে দূরে থাকতে হলে বা মুক্ত থাকতে হলে লাগবে পরিপূর্ণ সাবধানতা।

তাই আমাদের আগে জানতে হবে করোনা ভাইরাস কোন কোন মাধ্যমে ছড়ায়।

সারা দেশে এখন লকডাউন চলছে। কিন্তু আমরা কি লকডাউন পুরোপুরি ভাবে মেনে চলি বা চলতে পারি? পারি না। কারন আমাদের কোন না কোন খুব দরকারি কাজের জন্য বাহিরে যেতে হয়। জরুরি ওষুধ পত্র আনার জন্য হলেও বাহিরে যেতে হয়।সব বাজার এক সাথে করা যায় না।

তাই পেটের তাগিদে হলেও বাহিরে যেতে হয়। কোন কোন রোগের রেগুলার চেকআপ করার জন্য ডাক্তার এর কাছে যেতে হয়। অর্থাৎ আমাদের কোন না কোন কাজের জন্য হলেও বাহিরে বের হতে হয়। তা হোক অল্প কিছুক্ষণ এর জন্য হলেও।

যখন আমরা রাস্তা দিয়ে হাটি তখন জুতার মাধ্যমে ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারি। কারন রাস্তায় যেখানে সেখানে থুতু ফেলার অভ্যাস কম বেশি সবারই আছে। এখন কোন করোনা আক্রান্ত মানুষ যদি থুতু ফেলে আর তা যদি আমাদের জুতায় লাগে?

তাহলে জুতার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াচ্ছে। আর তাই বাহিরে পড়া সেই জুতা ঘরের ভিতরে নেয়া যাবে না। আবার ঘরের জুতা বাহিরে নিবেন না।

কাপরে ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়?

আমরা যদি ধিরে ধিরে চলি, তাহলে ধুলাবালি কম লাগে আর জোরে চললে বেশি লাগে কাপড়ে। তেমনি ভাইরাসও । কেউ যদি সামনে এসে জোরে জোরে কথা বলে, থুতু ছিটানর মত করে তা হলে ভাইরাস ছড়ায়।তাই দূরত্ব বজায় রেখে রাস্তায় চলতে হবে বা কথা বলতে হবে।

এতে কাপড়ে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না । বাসায় এসে কাপড় কয়েক ঘণ্টা বাতাসে ঝুলিয়ে রাখলেই হবে। তবে আপনাকে সঠিক ভাবে বুঝতে বা খেয়াল রাখতে হবে যে আপনি ঠিক মত দূরত্ব বজায় চলতে পেরেছেন কিনা।

যদি আপনি খেয়াল করতে পারেন যে ভাইরাস কাপড়ে লাগেনি বা লাগার কোন অবস্থায় আপনি পরেন নি তাহলেই কাপড় না ধুয়ে রাখতে পারেন।

অন্যথায় আপনাকে কাপড় ভাল করে সাবান দিয়ে ধুতে হবে। নিজেকেও গোসল করে ভাল মত জীবাণু মুক্ত হতে হবে। তাই এসব বিষয়ে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে।

চুলের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা আছে?

আমরা অন্যান্য জিনিসের তুলনায় চুলের ব্যাপারে একটু হলেও কম চিন্তিত। চুল ময়লা হল বা কিভাবে হয়?ভাইরাস ছড়াল কিনা বা কিভাবে ছড়াচ্ছে। ধরুন যদি, আপনার চুল খোলা বা মাথায় কাপড় নেই। কেউ আপনার পেছন থেকে জোরে হাঁচি বা কাশি দিলো।

তখন আপনার চুলে ভাইরাস লেগে যাবে। তখন আপনি নিঃসন্দেহে ভাইরাসের ঝুঁকিতে থাকবেন। কারন আপনি চুলে হাত দিবেনই, জানা অজানায়।

আর সেই হাত দিয়ে চোখে মুখে নাকে হাত দিবেন। আর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবেন। তাই ঘরে ফিরেই ভাল করে সাবান শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করবেন।

এই সব বিষয় নিয়ে দা নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় (১৭ এপ্রিল এর আপডেট ১৮ এপ্রিল ২০২০) লিখা হয়েছে। তারা বলছে যে, বায়ু প্রবাহের গতি-প্রকৃতি (অ্যারো-ডায়নামিকস) জানতে হবে।

করোনা প্রতিরোধে খাদ্য

করোনা প্রতিরোধ তারাই সহজে করতে পারবে বা আক্রান্ত হয় না সহজেই। যারা সু সাস্থের অধিকারি। ভিটামিন ডি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় দারুন কাজ করে। ভিটামিন ডি খুব দরকার এই সময়ে। ভিটামিন ডি আমাদের ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও খনিজ পদার্থকে সংশ্লেষণে সাহায্য করে সবসময়।

দাঁত আর হাড়ের জন্য তো এর বিকল্প নেই বললেই চলে। ভিটামিন ডি আমাদের পেশি, স্নায়ু, রোগ প্রতিরধের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই যেসব খাবারে ভিটামিন ডি আছে ,তা বেশি বেশি খেতে হবে।

যাদের ভিটামিনের ঘাটতি আছে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তারাই বেশি ঝুঁকিতে থাকে ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার।