বাংলাদেশ এর প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের জাতির জনক বা জাতির পিতা বলা হয়। ১৯২০- ১৯৭৫ পর্যন্ত তার জীবনীর কিছু মুহূর্ত এখানে তুলে ধরা হলঃ

  বঙ্গবন্ধুর জন্ম

১৯২০ সাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গীপড়াব  ১৯২ সালের ১৭ মার্চ জন্ম জন্মগ্রহণ করেন।

 পিতাঃ শেখ লুৎফর রহমান ও মাতাঃ মোসাম্মাৎ সায়রা বেগমের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে মুজিব তৃতীয় সন্তান।

১৯২৭ সাল : ৭ বছর বয়সে তিনি গিমাডাঙ্গা প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি হন ।

এবং ৯ বছর বয়সে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন।

১৯৩৪ সাল : ১৪ বছর বয়সে বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর একটি চোখ অপারেশন করা হয় কলকাতায় ।

চক্ষু রোগের কারণে লেখাপড়ায় সাময়িক বিরতি হয়।

 

   বিয়ে ও পরিবার ঃ

১৯৩৮ সাল : ১৮ বছর বয়সে বঙ্গবন্ধুর ও বেগম ফজিলাতুন্নেসার বিয়ে হয়। তাদের ঃ- দুই কন্যা ও তিন পুত্র।
কন্না = শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা
পুত্র = শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেলে।

১৯৩৯ সাল :স্কুলের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে ছাদ সারাবার জন্যও ছাত্রাবাসের দাবি স্কুল ছাত্রদের পক্ষ থেকে শেখ মুজিব তুলে ধরেন।

অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রীঃ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী কাছে ।

 রাজনীতির পথ চলা  ও বিশ্ববিদ্যালয় শুরু ;

১৯৪০ সাল : তিনি যোগদান করেন , নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে। এবং বেঙ্গল মুসলিম ছাত্র   ফেডারেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এক বছরের জন্য।

তাঁকে সেক্রেটারি নিযুক্ত করা হয় গোপালগঞ্জ মুসলিম ডিফেন্স কমিটির ।

১৯৪২ সাল : এন্ট্রান্স(এসএসসি)পাস করেন। মানবিক বিভাগে ইন্টরমিডিয়েটে ভর্তি হন কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ।এ বছরেই তিনি আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

১৯৪৩ সাল : ফরিদপুর ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশন-এর সম্পাদক নির্বাচিত হন, কলকাতাস্থ ফরিদপুর  বাসীদের       একটি সংস্থায় ।

১৯৪৬ সাল : সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন , কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের।

১৯৪৭ সাল : রাষ্ঠ্রবিজ্ঞানও ইতিহাসে ব্যাচেলর ডিগ্রী লাভ করেন,কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিয়া কলেজ থেকে ।

১৯৪৮ সাল : আইন বিভাগে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম ছাত্রলীগ ।

২৩ ফেব্র“য়ারি ->প্রধানমন্ত্রী খাজা নজিমুদ্দিন আইন পরিষদে – পূর্ব পাকিস্তানের জনগন উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষার ঘোষণায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠান বঙ্গবন্ধুরা ।

ভাষা আন্দলনের সিদ্ধান্তঃ

২ মার্চ ->রাজনৈতিক দলের কর্মীদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়,( ফজলুল হক মুসলিম হলে) ভাষা প্রশ্নে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সংগঠিত করার লক্ষে ।

১১ মার্চ ->সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করে মুসলিম লীগের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ।

১৫ মার্চ -> মুক্তি লাভ করেন।

১৬ মার্চ ->ছাত্র-জনতার সভার আয়োজন করা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ।

এই সভায় সভাপতিত্ব করেন।

১৭ মার্চ ->সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধর্মঘট পালনের আহ্বাণ জানান, পুলিশী হামলার প্রতিবাদে।

১৯ মে ->ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।

১১ সেপ্টেম্বর ->তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

১৯৪৯ সাল : ২১ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহি®কৃত হন( কর্মচারীরা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়াায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অযৌতিকভাবে জরিমানা করে।) তিনি প্রত্যাখ্যান করায় ।

২৬ এপ্রিল ->অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল উপ-নির্বাচনে- মুসলিম লীগ বিরোধী প্রার্থী শামসুল হককে সমর্থন জানান ও তাঁর হয়ে কাজ করেন।

২৩ জুন ->আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় এবংএ দলের যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন, জেলে থাকা অবস্থায় ।

সেপ্টেম্বরে ->১৪৪ ধারা ভঙ্গের দায়ে গ্রেফতার হন এবং পরে মুক্তি পান।

অক্টেবরে ->আওয়ামী মুসলিম লীগের সভায় নূরুল আমিনের পদত্যাগ দাবী করেন।

১৯৫০ সাল : ১ জানুয়ারি আওয়মী মুসলিম লীগ ভুখা মিছিল বের করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী  খানের আগমনে ।

১৯৫২ সাল : ২৬ জানুয়ারি খাজা নজিমুদ্দিন ঘোষণা করেন ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হবে উর্দু’।

২১ ফেব্র“য়ারি-> রাজবন্দী মুক্তি এবংবাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি দিবস হিসেবে পালন করার জন্য রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান , বন্দী থাকা অবস্থায়।

১৪ ফেব্র“য়ারি ->এ দাবিতে জেলখানায় অনশন শুরু করেন।

২১ ফেব্র“য়ারি-> ছাত্র সমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে।

২৬ ফেব্র“য়ারি-> তিনি মুক্তিলাভ করেন ফরিদপুর জেল থেকে ।

১৯৫৩ সাল : ৯ জুলাই পূর্ব  পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে  তিনি  দলের  সাধারণ  সম্পাদক   নির্বাচিত হন।

১৪ নভেম্বর ->দলের বিশেষ কাউন্সিল ডাকা হয় এবং এতে যুক্তফ্রন্ট গঠনের প্রস্তাব গৃহিত হয় ।

 নির্বাচনে জয় লাভঃ

১৯৫৪ সাল : ১০ মার্চ প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ,যুক্ত ফ্যন্ট লাভ করে ২২৩টি আসন, ২৩৭টি আসনের মধ্যে।

১৫ মে ->কৃষি ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন প্রাদেশিক সরকারের।

২৯ মে ->যুক্তফ্যন্ট মন্ত্রীসভা বাতিল করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার ।

৩০ মে ->গ্রেফতার হন করাচী থেকে ঢাকায় ফিরে।

২৩ ডিসেম্বর ->তিনি মুক্তিলাভ করেন।

১৯৫৫ সাল : ৫জুন জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

১৭জুন ->ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবি করে ২১দফা ঘোষণা করা হয় ।

২৩জুন -> আগস্টের গণ-পরিষদে বলেন, “আমাদের দাবি এ অঞ্চলের নাম ‘বাংলা’ হবে। বাংলার ইতিহাস , ঐতিহ্য দুই-ই রয়েছে। ”

২১অক্টোবর ->তাঁেক পুনরায় দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ।

আওয়ামী মুসলিম লীগের বিশেষ কাউন্সিলে দলের নাম থেকে “মুসলিম” শব্দ প্রত্যাহার হয়।

১৯৫৬ সাল :১৪ জুলাই প্রশাসনে সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিত্বের বিরোধিতা করে একটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়,আওয়ামী লীগের সভায় ।

এই সিদ্ধান্ত প্রস্তাব আনেন শেখ মুজিব।

৪ সেপ্টেম্বর ->খাদ্যের দাবিতে ভুখা মিছিল বের করা হয় ,১৪৪ধারা ভঙ্গ করে ।

১৬সেপ্টেম্বর->শিল্প, বাণিজ্য,শ্রম, দুনীর্তি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন কোয়ালিশন সরকারের ।

১৯৫৭ সাল : ৩০মে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন , সংগঠনকে সুসংগঠিত করবার উদ্দেশ্যে ।

৭ আগস্ট ->ইউনিয়ন সফর করেন, চীন ও সোভিয়েত ।

১৯৫৮ সাল : ৭অক্টোবর রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষনা করে দেন , পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রধান মেজর  জেনারেল আইয়ুব খান ।

১১অক্টোবর ->গ্রেফতার করা হয়।

১৯৬১ সাল : ৭ডিসেম্বর তিনি মুক্তিলাভ করেন, হাইকোর্টে রীট আবেদন করে ।

১৯৬২ সাল : ৬ফেব্র“য়ারি গ্রেফতার করা হয় তাঁকে জননিরাপত্তা আইনে ।

২জুন ->সামরিক শাসনের অবসান ঘটে চার বছরে ।

১৮জুন ->মুক্তিলাভ পান ।

২৫জুন ->যৌথ বিবৃতি দেন ,জাতীয় নেতৃবৃন্দ আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ।

৫জুলাই ->পল্টনের জনসভায় আইয়ুব সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।

২৪ সেপ্টেম্বর ->শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় মোর্চা জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গঠিত হয় লাহোর গিয়ে ।

১৯৬৬ সাল :৫ ফেব্র“য়ারি লাহরের ঐতিহাসিক ৬দফা দাবি পেশ করেন।

৬দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ।

১ মার্চ ->সভাপতি নির্বাচিত হন, আওয়ামী লীগের ।

১৯৬৮ সাল : ৩ জানুয়ারি পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ এনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে  এক নম্বর আসামী করে ।

মোট ৩৫ জন বাঙালি সেনা ও অফিসারের বিরুদ্ধে ।

১৭ জানুয়ারি -> দেশে বিক্ষোভ শুরু হয় , আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অভিযুক্ত আসামীদের মুক্তির দাবিতে ।

১৯ জুন->বিচার কার্য শুরু হয় ঢাকা সেনানিবাসে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আগতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামীদের ।

১৯৬৯ সাল : ৫ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, ৬ দফাসহ ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে ।

১ ফেব্র“য়ারি ->আইয়ুব সরকার, গোলটেবিল বৈঠকের আহ্বান জানায় এবং তাঁকে প্যারোলে মুক্তির ঘোষণা দেয়। বঙ্গবন্ধু তা প্রতাখান করেন ।

২২ ফেব্র“য়ারি ->কেন্দ্রীয় সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে তাঁকেসহ অন্যান্য আসামীকে মুক্তিদানে বাধ্য হয় , জনগণের অব্যাহত চাপের মুখে ।

২৩ ফেব্র“য়ারি ->কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্দোগে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয় , রেসকোর্স ময়দানে (সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান)।

প্রায় ১০ লাখ ছাত্র-জনতার এই সংবর্ধনা সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় ।

২৬ ফেব্র“য়ারি ->বঙ্গবন্ধু আইয়ুব খানের গোলটেবিল বৈঠকে যোগদান করে রাওয়ালপিন্ডিতে।

১৩ মার্চ ->তিনি গোলটেবিল বৈঠক ত্যাগ করেন এবং ১৪ মার্চ ঢাকায় ফিরে আসেন,বঙ্গবন্ধুর দাবি অগ্রাহ্য করলে ।

২৫ মার্চ ->ইয়াহিয়া খান সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে ,ক্ষমতাসীন হন।

২৫অক্টোবর ->লন্ডন গমন করেন , বঙ্গবন্ধু তিন সপ্তাহের সাংগঠনিক সফরে ।

   বাংলাদেশ নামকরনঃ

৫ডিসেম্বর ->বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন “বাংলাদেশ” ,শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় ।

১৯৭০ সাল : ৬ জানুয়ারী পূনরায় আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু।

১ এপ্রিল ->কার্যকরী পরিষদের সভায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় , আওয়ামী লীগের ।

৭জুন ->বঙ্গবন্ধু ৬ দফার প্রশ্নে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান , রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় ।

১৭ অক্টোবর ->বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ প্রতীক পছন্দ করে এবং ঢাকার ধোলাইখালে প্রথম নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।

২৮অক্টোবর -> বেতার-টিভি ভাষণে ৬দফা বাস্তবায়নে  আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার  জন্য, দেশবাসীর প্রতি আবেদন জানান।

১২ নভেম্বরের ->গোর্কিতে উপকূলীয় এলাকায় , ১০লাখ মানুষের প্রাণহানি হলে, বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী প্রচারণা বাতিল করে দূর্গত এলাকায় চলে যান এবং পাকিস্তানি শাসকদের ঔদাসীন্যের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান।

তিনি বিশ্ববাসীর প্রতি আহবান জানান গোর্কি-উপদ্রুত মানুষের ত্রাণেন জন্য।

৭ডিসেম্বর ->নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার মাধ্যমে জয় লাব করে ।

( পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০টি আসনের মধ্যে ৩০৫টি জয় করে ) ।

১৯৭১ সাল :৩ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু জনপ্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ পরিচালনা করেন – রেসকোর্সের জনসভায়।      আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্যরা ৬দফার ভিত্তিতে শপথ গ্রহণ করে।

৫ জানুয়ারী ->পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো আওয়ামী লীগের সাথে কোয়ালিশন সরকার গঠনে সম্মতির কথা ঘোষণা করে।

জাতীয় পরিষদ সদস্যদের বৈঠকে বঙ্গবন্ধু পার্লামেন্টারী দলের নেতা নির্বাচিত হন।

২৮ জানুয়ারী ->বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনার জন্য ঢাকায় আসেন ,জুলফিকার আলি ভুট্টো।আলোচনা ব্যর্থ হয়ে যায়, তিনদিন বৈঠকের পর।

১৩ ফেব্র“য়ারী ->প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আহবান করেন ,৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের বৈঠক।

১৫ ফেব্র“য়ারী ->দুই প্রদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার দাবি জানান ভুট্টো ঢাকার জাতীয় পরিষদের বৈঠক বয়কটের ঘোষণা দিলে ।

১৬ ফেব্র“য়ারী ->বঙ্গবন্ধু এক বিবৃতিতে –ভুট্টোর দাবির তীব্র সমালোচনা করে বলেন,”ভুট্টো সাহেবের দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে, একমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের কাছে। ক্ষমতার মালিক এখন পূর্ব বাংলার জনগণ” ।

১ মার্চ ->সারা বাংলায় প্রতিবাদেও ঝড় ওঠে ,ইয়াহিয়া খান অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় পরিষদের বৈঠক স্থগিতের ঘোষণা দিলে ।

২ মার্চ ->দেশব্যাপী হরতাল আহবান করা হয়, বঙ্গবন্ধুর সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগ কার্যকরী পরিষদের জরুরি বৈঠকে ।

৩ মার্চ ->বঙ্গবন্ধু অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি দাবি জানান ,সারা বাংলায় হরতাল পালিত হবার পর।

 ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক ঃ

৭ মার্চ -> “ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম – এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম , জয় বাংলা”     রেসকোর্সের জনসমুদ্র থেকে বঙ্গবন্ধু ষোষনা করেন ।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালি জাতিকে শৃংখল মুক্তির আহ্বান জানিয়ে ঘোষণা করেন, (‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব।

এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। … প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্র“র মোকাবেলা করতে হবে ) বঙ্গবন্ধু শান্তিপূর্ণ অসহযোগ  আন্দোলনের ডাক দিলেন সারা দেশে। শুরু হয় অসহযোগ ।

১৬ মার্চ ->ক্ষমতা হস্তান্তর প্রশ্নে মুজিব-ইয়হিয়া বৈঠক শুরু হয় ঢাকায়। জনাব ভুট্টো ঢাকায়  আসেন ।

   কাল রাতঃ

২৫ মার্চ ->সন্ধ্যায় ইয়াহিয়া-ভুট্টো ঢাকা ত্যাগ করে আলোচনা ব্যার্থ হওয়ায় এবং দিবাগত রাতে নিরীহ ,নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি সোনাবাহিনী নির্মম ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

বঙ্গবন্ধু মধ্যরাতের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে ।

“স্বাধীনতার ঘোষণা”

“পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অতর্কিত পিলখানার ইপিআর ঘাঁটি, পুলিশ লাইন আক্রমণ করেছে এবং শহরের লোকদের হত্যা করেছে।

ঢাকা, চট্টগ্রামের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে। আমি বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি।আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে মাতৃভূমি মুক্ত করার জন্য শত্র“দের সাথে যুদ্ধ করছে।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র নামে আপনাদের কাছে আমাদের আবেদন ও আদেশ , দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান।

আপনাদের পাশে এসে যুদ্ধ করার জন্য পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আনসারদের সাহায্য চান। কোন আপস নাই, জয় আমাদের হবেই, পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্র“কে বিতাড়িত করুন।

সকল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, দেশপ্রেমিক এবং স্বাধীনতাপ্রিয় লোকদের এই সংবাদ পৌছিয়ে দিন। আল্লাহ্ আপনাদের মঙ্গল করুন, জয় বাংলা।”

বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বান বিশেষ ব্যবস্থায় সারাদেশে পাঠানো হয় বেতার যন্ত্র মারফত তাৎক্ষনিকভাবে।

পাকিস্তান বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির ৩২ নং বাসভবন থেকে গ্রেফতার এবং  ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যায় ১টা ১০ মিনিটে ।

২৬ মার্চে ->২৬ মার্চ চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান চট্টগ্রাম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা-পত্রটি পাঠ করেন এবং সারা বাংলায় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় ।

১০ এপ্রিল ->বিপ্লবী সরকার গঠিত হয় শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে।

১৭ এপ্রিল ->বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ,মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার আম্রকাননে (মুজিবনগর)।

১৬ ডিসেম্বর ->পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণ করে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে এবং বাংলাদেশ এর বিজয় অর্জিত হয়। বাংলাদেশ স্বধীনতালাভ করে।

২৭ ডিসেম্বর ->জাতির জনক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি প্রদানের দাবি জানানো হয়। ভারতসহ বিভিন্ন দেশ ও আর্ন্তজাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে ।

১৯৭২ সাল : ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয় পাকিস্তান সরকার।

এবংসেদিনই বঙ্গবন্ধু লন্ডন থেকে দিল্লীতে গেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানান।

১০ জানুয়ারী ->ঢাকায় পৌঁছেন এবং সরাসরি রেসকোর্স ময়দানে গিয়ে লাখো জনতার সমাবেশে অশ্র“সিক্ত নয়নে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।

১১ জানুয়ারী ->বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন  ।

৬ ফেব্র“য়ারী -> বঙ্গবন্ধুর বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে এবং তাঁর আজীবন সদস্যপদ প্রদান করেন , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ,২৪ বছর পর ।

১ মার্চ ->সোভিয়েত ইউনিয়ন সফরে যান বঙ্গবন্ধু ।

১২ মার্চ ->ভারতীয় মিত্র বাহিনী বাংলাদেশ ত্যাগ করে বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে ।

 মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরঃ

১৯ মার্চ ->ভারত- বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২৫ বছরের (মুজিব-ইন্দিরা স্বাক্ষরিত করেন) ।

২৬ মার্চ ->বঙ্গবন্ধু ভারী শিল্প জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত ঘোষনা করেন (ব্যাংক, বীমা, পাট, বস্ত্র, চিনি ও জাহাজ শিল্পসহ) ।

১ মে ->বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দেন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সরকারী কর্মচারীদের ।

৩০ জুলাই ->বঙ্গবন্ধুর পিত্তকোষে অস্ত্রোপাচার করা হয় লন্ডনে এবং তার পর লন্ডন থেকে জেনেভা যান।

১০ অক্টোবর ->বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরী পুরস্কারে ভূষিত করে বিশ্ব শান্তি পরিষদ।

৪ নভেম্বর ->বাংলাদেশের ১ম সংবিধান প্রণীত হয় এবং প্রথম সাধারণ নির্বচনের তারিখ (৭ মার্চ ১৯৭৩) ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু ।

১৫ ডিসেম্বর ->মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় খেতাব প্রদানের কথা ঘোষণা করেন, বঙ্গবন্ধু সরকার।

১৯৭৩ সাল : ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৯৩ আসন লাভ হয় ,জাতীয় সংসদের প্রথম নির্বাচনে ।

৩ সেপ্টেম্বর ->সিপিবি ও ন্যাপের সমন্বয়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত করে আওয়ামী লীগ ।

৬ সেপ্টেম্বর ->আলজেরিয়া যান জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনে শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য বঙ্গবন্ধু।

১৭ অক্টোবর ->জাপান সফর করেন বঙ্গবন্ধু ।

১৯৭৪ সাল : ১৯ ফেব্র“য়ারি ঢাকা পৌরসভাকে কর্পোরেশনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু ।

২২ ফেব্র“য়ারি ->পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে কারন , কোন জামেলার ভয়ে ।

২৩ ফেব্র“য়ারি ->বঙ্গবন্ধু ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করেন।

১৮ সেপ্টেম্বর ->বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ এবং তা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সর্বসম্মত অনুমোদনে ।

২৫ সেপ্টেম্বর ->বাংলায় ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ।

১৯৭৫ সাল:২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এবংবঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ।

২৪ ফেব্র“য়ারি ->জাতীয় দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন করে , দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ।

২৫ ফেব্র“য়ারি ->এই জাতীয় দলে যোগদানের জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও নেতাদের প্রতি আহবান জানান বঙ্গবন্ধু ।

৬ জুন ->বঙ্গবন্ধু জাতীয় দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।

বাঙালি জাতির  জাতিও শোকঃ

১৫ আগষ্টের ->ভোরে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে এবং সপরিবারে নিজ বাসভবনে বিশ্বাসঘাতকের হাতে নিহত হন।