আমরা আদাজল খেয়ে, কোমর বেঁধে নেমে পরি ডায়েট করার জন্য। নিজেকে ফিট করতে, নিজেকে মেদহিন করার জন্য। শুরু করে দেই ব্যায়াম করে মেদহিন পেট পাওয়ার জন্য।খুব দ্রুত মুটিয়ে যাওয়া পেটকে এক নিমিষে শেষ করতে চাই।

পড়াশোনা, চাকরি ,সংসার সামলানোর কাজে বেস্ত থাকায় নিজেদের প্রতি খেয়াল করার সময় হয়েও হয়ে উঠে না। পুরনো কাপড় পরতে গেলে বা পছন্দের কাপড় কিনতে গেলে আর পরাও হয় না কিনাও হয় না।

কারন ঐ একটাই, মেদযুক্ত বড় পেট। পেট আর আগের মত নেই, তখনি যত বিপদ ঘটে। তখন না পারা যায় হটাত করে পেট কমানো বা পসন্দের ঐ কাপড় পড়া বা কিনা। তখনি নেমে পরি আলাদিনের চেরাগের জাদুর মত নানান কৌশলের মাধ্যমে পেট কমাতে।

কিন্তু আমাদের এটা মাথায় রাখতে হবে যে আমাদের এই মুটিয়ে যাওয়া পেট এক দিনে হয়নি। তেমনি এই মুটিয়ে যাওয়া পেটও এক দিনে কমে গিয়ে মেদহিন হয়ে পাতলা হবে না।

আর তাই আমাদের এই মুটিয়ে যাওয়া পেটকে পূর্বের অবস্থায় আনতে হলে দিনে দিনে অল্প অল্প করেই করতে হবে।

আগে এটা জানতে হবে যে পেট কেন বেড়ে যায় বা মুটিয়ে যায়। তাই পেট মুটিয়ে যাওয়ার কারন জেনে তারপর যথাযথ বেবস্থা করতে হবে । যেমনঃ নিয়ম মেনে সঠিক সময়ে, সঠিক ব্যায়াম এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস করতে হবে।

পেটে মেদ কেন জমে?

সঠিক সময়ে না খেলে শরীরে এসিডের পরিমান বেড়ে গিয়ে মেদ জমে।অতিরিক্ত তেল চর্বি জাতীও খাবার খেলে, দীর্ঘ সময় বসার কাজ করলে।দিনে দিনে পেটের চারপাশে মেদ জমতে শুরু করে। এবং তা একটা সময় পরে পেট বেড়ে গিয়ে ফুলে থাকে।

পেটে মেদ জমলে ক্ষতি কি?

পেটে মেদ জমলে অনেকে হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলে কিচ্ছু হবে না, পরে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আসলে তা ঠিক না। পেট বেড়ে গেলে শুধু দেখতেই খারাপ লাগে না , নানান রকমের অসুখ ও রোগ তৈরি হয়। পেটের

অতিরিক্ত চর্বি বা মেদ কিডনি, স্ট্রোক, হৃদরোগ এর মত নানা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যায় দিনে দিনে যা পেটে চর্বি জমার একটি প্রধান কারন।

পেটের মেদ কমানোর সহজ কিছু উপাদান

আমরা যদি নিয়মিত ব্যায়াম বা ডায়েট না করতেই পারি তাহলে কিছু কিছু খাবার আক্ত কম করে খেলে বা এরিয়ে চললেই হবে। এতে করে সহজেই পেটের মেদ কমতে সাহায্য করবে , স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাবে।

১। সবুজ শাকসবজি

সবুজ শাকসবজিতে ক্যালোরি অন্যান্য জিনিশের তুলনায় কম থাকে। আর শরীরের উপকারি হাই ফাইবার বেশি থাকে। যা খাবার দুরুত হজম করতে সাহায্য করে। এছাড়াও সবুজ শাকসবজি খুব তারাতারি ওজন কমাতে সাহায্য করে। শরীরের স্থুলতা কমাতে সবুজ শাকসবজির কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই বললেই চলে।

২। ডিম

ডিমে থাকে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন যা শক্তি সঞ্চয় করে ও বৃদ্ধি করে। সাথে সাথে দূষিত মেদও বের করে দেয়। তাই আপনি সহজেই আপনার খাদ্য তালিকায় ডিম রাখতে পারেন মেদহিন থাকার জন্য। আর ডিম খেলে খুব দ্রুত পেটের মেদ কমতে শুরু করে।

৩। বাদাম

ক্ষুধা নিবারণ এর জন্য বাদামের জুরি নেই। রোজ বাদাম খেলে ঘন ঘন খিদা লাগে না। বাদাম নানা রকম রোগ প্রতিরোধ করতেও ভুমিকা রাখে। স্থুলতা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও ক্যান্সারের মতো রোগ আরও নানা রকমের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

৪। প্রোটিন

প্রোটিন পেশি তৈরিতে ও পেটের মেদ কমাতে বা ঝরাতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় তাই প্রোটিন রাখতে হবে বেশি বেশি।যেমন- ডাল, শিমের বীজ, ডিম, সামুদ্রিক মাছ , মুরগী।
প্রোটিন মেদ বৃদ্ধি করতে বাঁধা দেয়।

পেটের মেদ বা শরীরে চর্বি সাস্থের জন্য ক্ষতি। মেদ বারতে থাকলে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়। তাই খাবার খেতে হবে বুঝে শুনে। শরীর চর্চাও করতে হবে একটু একটু করে।