সংসার সামলাতে গিয়ে নিজের যত্ন একেবারেই নেয়া হয়ে উঠে না। তাই ঘরে বসে কিভাবে নিজেকে ফিট রাখা যায় তা নিয়ে শুরু হয় চিন্তা। সারাদিন বাসায় থেকে থেকে গৃহিণীদের ফিট থাকাএবং সুস্থ্য থাকা কঠিনই বটে।কারন রান্নাঘর থেকে শুরু করে বাসার কমবেশি সবকিছুই একজন গৃহিণীকেই সামলাতে হয়।

আর তাই সংসার সামলাতে গিয়ে নিজের দিকে খেয়াল রাখা কিংবা নিজেকে ফিট রাখা হয়ে হয়ে করেও হয়ে উঠে না। কিন্তু গৃহিণীরা চাইলেই একটু সময় বের করে ফিট এবং সুস্থ্য থাকার উপায় বের করতে পারবেন। খুব ছোট ছোট উপায় বের করে সহজেই ফিট থাকা যায় যা জেনেও আমাদের অজানা থাকে।

আর এই সহজ উপায় হতে পারে কিছু সাধারন জিনিস এর পরিবর্তন , খাদ্যাভাসে একটু পরিবর্তন , ডায়েট প্ল্যান এর মাধ্যমে আপনি আবার পেতে পারেন ঝরঝরে ও মেদহিন শরীর।

তাই আমরা আজকে জানব কিভাবে সংসারে বেস্ত থাকা গৃহিণীরা সহজেই ফিরে পেতে পারেন তাদের পুরনো বা স্বপ্নের ঝরঝরে ও মেদহিন একটি শরীর।তারই কিছু সহজ পদ্ধতি আলোচনা করা হল।

 

খাদ্যাভাসের পরিবর্তনঃ

১।প্রতিবেলায় খাবারের পরিবর্তন

দিনে শুরুতেই ভেবেনিন সারাদিনে কি কি খাবেন আর খাবেন না। সারা দিনের খাবারে বালেঞ্চ রাখবেন।দিনের শুরুতেই চেষ্টা করবেন ভারি খাবার রাখতে। কারন দিনের শুরুতেই ভারি কাজ বা সারা দিনের কাজের ভারটা পরে আর শরীরও ফিট ও একটিভ থাকে। তাই সকালে ভারি খেলে দুপুরে টার থেকে একটু কম খাবেন আর রাতে যত কম খেতে পারেন।

চাইলেই ক্যালরি চার্ট করে ফেলতে পারেন সারা দিনের। তাহলে একটা আন্দাজ থাকবে যে সারা দিনে কত ক্যালরি খাবেন আর না।এতে করে ওজন বৃদ্ধি পাবে না বা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

২।ক্যালোরি গ্রহণে পরিবর্তন

ক্যালোরি শরীরকে মুটিয়ে ফেলে, যখন আপনি প্রয়জনের থেকে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন।তাই ক্যালোরি খেতে হবে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী।এবং একটা নির্দিষ্ট পরিমান জেনে খেতে হবে।

৩।শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি খাওয়া

পানি খেতে হবে প্রচুর পরিমানে।সকালে ঘুম থেকে উঠেই ২ গ্লাস পানি খেতে হবে, এতে আপনার শরীর চাঙ্গা থাকবে। দুপুরে বা রাতে খাবার ১/২ ঘণ্টা আগে পানি খেতে হবে এতে খাবার হজম ভাল হবে এবং আপনিও সস্তি বোধ করবেন। এতে করে প্রয়োজনের থেকে বেশি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারবেন।পানি পিপাসা বা তেষ্টা পেলেই পানি খেতে হবে। আর মনে রাখতে হবে যে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে না পানি না খাবার, কোন কিছুই খাবেন না।

শরীর চর্চাঃ

৪।হালকা শরীর চর্চা

সারাদিন বাসায় থাকার কারনে শরীর টার স্বাভাবিক সৌন্দর্য দিনে দিনে হারিয়ে ফেলে।যারফলে মন মানুসিকতাও বিষণ্ণ হয়ে পরে।কিন্তু আপনি যদি চান ঘরে বসেই নিজেকে ও নিজের মনকে ফিট রাখতে পারেন।শরীরকে মুটিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারেন ফ্রী হ্যান্ড এক্সারসাইজ করে।

অথবা আপনি ইয়গাও করতে পারেন। আপনি ইউটিউব দেখে দেখে করতে পারেন। বা আপনি আপার পছন্দের গানের তালে তালে নাচতে পারেন। দুপুরে ঘুমান যাবে না। কিন্তু চাইলে একটু বিশ্রাম নিতেই পারেন। বা বিকালে পার্কে গিয়ে একটু হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। অন্যদের সাথে কথাও হবে হাঁটাহাঁটিও হবে।

খাওয়া দাওয়াঃ

৫।নিজের পছন্দের খাবার রান্না করুন

গৃহিণীরা পরিবারের পছন্দ অপছন্দ ভেবে রান্না করতে করতে ভুলেই যান নিজের পছন্দের কথা। আবার চাইলেও কেউ কেউ সাহস পান না রান্না করতে নিজের মন মত খাবার। আর তাই অনেক সময় মন না চাইলেও অপছন্দের খাবার খেতে হয় বা না খেয়ে থাকতে হয়।

এতে করে শরীর দিনে দিনে টার স্বাভাবিক গতি হারিয়ে ফেলে।যার ফলে শরীর নেতিয়ে যায় বা মুটিয়ে যায়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রন করতে বা শরীরকে ফিট রাখতে নিজের পছন্দ টাকেও গুরুত্ত দিতে হবে।

বিশ্রামঃ

৬।ঘুম

একজন গৃহিণীর সুস্ততা ধরে রাখতে দরকার পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম। মহিলাদের ঘুম পুরুষদের থেকেও ২ ঘণ্টা বেশি হওয়া দরকার ।কারন পুরুষদের তুলনায় মহিলারা সংসারের বেশি চিন্তা করেন।

বেশি কাজের উপর লক্ষ্য রাখতে তাদের মাথায় চাপ বেশি পরে। এতে করে ঘুম যদি কম হয় তখন এর প্রভাব শরীরের উপর পরে। এবং দিনে দিনে ওজন বৃদ্ধি পায়। তাই ঘুমাতে হবে পর্যাপ্ত পরিমান।

 

আর ভুলেও একাকীত্ব দূর করার জন্য অতিরিক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। অনেকে খাবার খেয়ে নিজেকে হাসিখুশি রাখতে চান। কিন্তু এটা একদম ভুল ধারনা। এতে করে ভাল হওয়া থেকে হিতে বিপরীতই বেশি হয়।
তাই এই সহজ সহজ টিপস মনে রেখে নিজেকে একটু করে পরিবর্তন করুন। খুশি থাকুন ও পরিবার এবং চারপাশকেও খুশি রাখুন।