কিছু দিন পূর্বেই আমাদের এই যুগকে বর্তমান আধুনিক যুগ বলা হত কিন্তু এখন আমরা বর্তমান আধুনিক যুগ বলি না। আমরা এখন বলি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ। কারন তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও অনেক বেশি সাফল্য অর্জন হয়েছে।

একটা বিশেষ সময় ছিল যখন মানুষ পায়ে হেটে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করতো। তারপর ধিরে ধিরে বিজ্ঞানের উৎকর্ষ শক্তির ফলে সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে কিন্তু তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে খুব বেশি উন্নয়ন সাধিত হয় নি।

তবে আধুনিক যুগে ইন্টারনেট আবিষ্কারের পর থেকে শুরু হয়েছে আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ এর বিশেষ একটি মাধ্যম, যার মাধ্যমে যোগাযোগ কে করেছে সহজ থেকে আরও সহজ। যোগাযোগের এমন সহজ মাধ্যমের ফলে পুরো বিশ্বটা যেন একটা গ্রামে পরিণত হয়েছে। আগে গ্লোবাল ভিলেজ-এর নাম শুনলে ভাবতাম এটা আবার কি জিনিষ কিন্তু এখন নিজেই সেই ভিলেজের একজন স্থায়ি বাসিন্দা।

এই পর্বে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্পর্কে আলোচনা করব যার ফলে আপনি অনেক অজানা কিছু তথ্য জানতে পারবেন।

সামাজিক যোগাযোগ

সামাজিক যোগাযোগ

বর্তমান সময়ে যোগাযোগের অন্যতম ক্ষেত্র হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ বলতে শুধুমাত্র একটা সমাজের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বোঝায় না। সামাজিক যোগাযোগের পরিধি এখন সমাজ এবং রাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে সারা বিশ্ব ব্যাপী ছরিয়ে পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ এর ক্ষেত্রে বর্তমান তথ্য পজুক্তি যুগে বিশেষ কিছু মাধ্যমের ফলে যোগাযোগ কে এমন সহজ করে ফেলেছে যা আমাদের কল্পনার সম্পূর্ণ বাহিরে ছিল। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তুলে ধরলাম।

ফেসবুক
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রধান ও সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হল ফেসবুক।সামাজিক যোগাযোগের ধারনাকে সামনে নিয়ে পুরু বিশ্বকে অবাগ করে দেয় ফেসবুক। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইটের মধ্যে ফেসবুক এখন সর্বশ্রেষ্ঠ ।
ফেসবুক এমন একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যার ফলে সারা বিশ্বকে সবার হাতের মুঠোর মধ্যে নিয়ে এসেছে। মানুষকে এমন একটি প্লাটফর্মে নিয়ে এসেছে ফেসবুক যা সামাজিক যোগাযোগকে সহজ থেকে অতি সহজ করে দিয়েছে।

টুইটার
ফেসবুকের পরে দ্বিতীয় জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হল টুইটার। তবে টুইটার বাংলাদেশে খুব বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি কারণ টুইটারে সাধারণত বড় বড় তারকারা বেশি একটিভ থাকে। সামাজিক যোগাযোগ এর ক্ষেত্রে এই সাইটের মাধ্যমে অনেক বড় একটা জনসংখ্যার সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

গুগল প্লাস
গুগল প্লাস হল বিশ্বের বৃহত্তম ইন্টারনেট কোম্পানি গুগল এর সামাজিক যোগাযোগ এক বিশেষ মাধ্যম। বাংলাদেশের মধ্যে গুগল প্লাস খুব একটা জনপ্রিয় না হলেও এখানে যথেষ্ট ব্যবহারকারী আছে। আপনি হোয়ত জানেন না, গুগল প্লাস ব্যবহার করা অতি সহজ। গুগল প্লাস ব্যবহার করা ফেসবুক ব্যাবহার এর চেয়ে অনেক বেশি কিছু সুবিধাজনক।

জনপ্রিয় মাধ্যম হল ইমেইল

জনপ্রিয় মাধ্যম হল ইমেইল

ইমেইল

বর্তমানে তথ্য লেনদেন এর সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হল ইমেইল। এখন অনেক মানুষের যোগাযোগের জন্য অত্যাবশ্যকীয় মাধ্যম হল ইমেইল। ইমেইল এর অর্থ ইলেক্ট্রনিক মেইল । আগে কার সময়ের চিঠির উন্নত মাধ্যমই হল ইমেইল। ইমেইল আবিষ্কারের পর থেকে যোগাযোগের মাধ্যম বৈপ্লবিক হারে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

সাধারণত একটি চিঠি আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক সময় লাগতো কিন্তু ইমেইলের মাধ্যমে কোন বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কয়েকটি ন্যানো সেকেন্ডই প্রয়োজন। ব্যক্তিগত, দলীয় এবং ব্যবসায়ীক যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে ইমেইলের বিকল্প মাধ্যম পাওয়া কঠিন ব্যাপার। বর্তমানে বিশ্বের জনপ্রিয় কিছু বিনামূল্যে ইমেইল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

জিমেইল
জিমেইল গুগলের একটি বিনামূল্যে ইমেইল সেবা। জিমেইল পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জনপ্রিয় ইমেইল সেবা। জিমেইলের নিরাপত্তা তলনামুলক অনেক বেশি। এছাড়া, জিমেইলের মাধ্যমে ইমেইল আদান-প্রদান করা খুবই সহজ এবং স্বল্প সময় সাপেক্ষ।

ইয়াহু
ইয়াহু হল ইনকর্পোরেশনের একটি ইমেইল সেবা। গুগলের পরের অবস্থানেটাই হল ইহাহু। সাম্প্রতিক সময়ে গোপন তথ্য ফাঁস নিয়ে ইয়াহুর সুনাম অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে ইয়াহু ব্যবহারকারীরা ব্যবহারে খুব বেশি ইচ্ছা প্রকাশ করছে না। এই সকল কারনে ইয়াহু মেইল ক্ষতির সম্মুখীন হইতে হচ্ছে।

হটমেইল
পৃথিবী বিখ্যাত মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের ইমেইল সেবার আরেক নাম হটমেইল। মাইক্রোসফটের হটমেইল ছাড়াও তাদের লাইভ ডট কম নামের আরেকটি ইমেইল সেবা রয়েছে।

ব্লগিং
ব্লগিং যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটা মাধ্যম হিসাবে বর্তমানে কাজ করছে। ব্লগিং এর মাধ্যমে নিজের সাইটে লেখালেখি করেও অন্য কোন বিনামূল্যে ব্লগিং সাইটের মাধ্যমে গণযোগাযোগ খুব সহজ ভাবে করা যায়। বিশ্বের বিখ্যাত ব্লগিং সাইট হচ্ছে গুগলের ব্লগস্পট ডট কম ও ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম। এই সাইটে লেখা প্রকাশ করার পাশাপাশি পাঠকদের মতামত নেয়া এবং তার উত্তর দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যার ফলে খুব সহজেই যোগাযোগ করা যায়।

ভিডিও এবং ভয়েস কল
উপরের মাধ্যম সমূহ ছাড়াও যোগাযোগ এর জন্য ভিডিও এবং ভয়েস কল অন্যতম মাধ্যম হিসাবে কাজ করে। পূর্বে ভয়েস চেট এবং ভিডিও কল করার জন্য শুধু স্কাইপি ব্যবহার করা হতো কিন্তু বর্তমানে এন্ড্রয়েড ফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে ভাইবার এবং ইমুর ব্যবহার অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমানে ভয়েস এবং ভিডিও চ্যাটের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হল হোয়াটস অ্যাপ, ভাইভার ও ইমু।

যোগাযোগের