নুনের মতো ভালোবাসা’ গল্পটি নিশ্চয়ই জানেন। রাজকন্যারা রাজাকে কে কেমন ভালবাসেন জানতে চাইলে অন্যান্য মেয়েরা দামি দামি জিনিসের মত ভালবাসার কথা বললেও ছোট মেয়ে বলেছিলেন-নুনের মত ভালবাসি। উত্তরে রাজা অখুশি হয়ে তাকে নৌকায় সমুদ্রে ভাসিয়ে দেয়। তার কান্নার পানি সমুদ্রে মিশে গিয়ে পানি হয়ে যায় নোনা। এটা রূপকথার গল্প। গল্পে ছোট মেয়ের ভাষ্য দিয়ে আমাদের জীবনে লবনের ব্যবহারের কথা বোঝানো হয়েছে। খাবারের অন্যতম দরকারি উপাদান লবণ বা নুন। অন্য উপাদানগুলোর তুলনায় পরিমাণে কমই লাগে, কিন্তু না হলেও চলে না।

লবণক্ষেতের দখল নিয়ে ইতিহাসে যুদ্ধ হয়েছে, সামান্য লবণ খাইয়ে জমিদারের কাছ থেকে ক্ষেতিজমি উপহার পেয়েছেন অসহায় কৃষক। মালিকের লবণ বা নিমক খাওয়ার কারণে সততা ও ঈমানের পরীক্ষা দিতে হয়েছে অনুগত কর্মচারীদের। সেই থেকে চালু হয়েছে নিমক হালাল বা নিমক হারামের মতো প্রবাদ। সেই লবণ খেলেই আবার মৃত্যু? মানতে পারছেন না?

যদি এ পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ খাদ্য উপাদান হিসেবে তাদের নিত্যব্যবহার্য লবণের মাত্র ১৫ শতাংশ বর্জন করে তাহলে বছরে ৮৫ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব। আর খাদ্যাভ্যাস থেকে এটুকু কমাতে পারলে সারা বিশ্বে স্বাস্থ্য পরিচর্যার খরচ কমবে কমপক্ষে ২৪ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকার সমান।

লবন টিপস

যেভাবে লবন খাওয়া কমাবেন

অতিরিক্ত লবণ খাওয়া মৃত্যু ত্বরান্বিতকারী রোগগুলোর অন্যতম কারণ। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ শরীরে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনির সমস্যাসহ নানা ধরনের রোগ হয়ে থাকে। তাই খাদ্যের স্বাদের দিকে শুধু না তাকিয়ে নিজেদের স্বাস্থ্যের দিকেও তাকাতে হবে। খাবারে স্বাভাবিকভাবে যে পরিমাণ লবণ ব্যবহার করা হয়, সচেতনভাবে এখন থেকে তার চেয়েও কম খাওয়া উচিত। জীবনে স্বাদ জাগায় লবণ, তবে অতিরিক্ত খেলে জীবন কেড়েও নেয়। তাই চলুন, একটু মেনে চলি। জীবন বাঁচাতে অভ্যাসটা না হয় একটু পাল্টাই।

লবন খাওয়া কমানোর টিপসঃ

১. খাবারের সাথে আলাদা লবন না নেওয়া।
২. রান্নায় কম লবন ব্যবহার করা।
৩. হোটেল/রেস্টুরেন্টে যতটা সম্ভব কম খাওয়া।
৪. খাওয়ার টেবিলে লবনের বাটি না রাখা।
৫. আপনার বাচ্চাকে ছোটবেলা থেকেই কম লবন খাওয়া অভ্যাস করান।
৬. বাজারের বিভিন্ন ধরনের বেশি লবনের বিস্কুট, চিপস ইত্যাদি কম খাবেন।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী একজন পূর্ণবয়স্ক লোকের প্রতিদিন ১ চা চামচ বা তার কম লবন খাওয়া উচিৎ।