আপনার বিজনেস প্রসারের জন্য কী করবেন আর কী করবেন না তা জেনে রাখুন

আপনি সব বিষয়ে পারদর্শী হওয়ার মধ্যে কোন কৃতিত্ব নেই কারন তখন সবাই ভাববে আপনি কোন কাজই ঠিকমত করতে পারেন না। বিজনেস এর ক্ষেত্রে, অধিক পণ্য তৈরি করা, স্বাভাবিক এর চেয়ে বিশেষত্বের বাইরে কাজ করা এবং সামান্য কিছু লাভের জন্য মূল বাজার ছেরে অন্য বাজারে পণ্যের প্রসারে ব্যস্ত থাকাটাই সব চেয়ে বোকামি কাজ। যদি এমনটি হয়ে থাকে তাহলে আপনার ক্ষেত্রে তাহলে আপনার আসল শক্তি এমন জিনিসের জন্য ব্যয় করছেন তাতে আপনি সফল নাও হতে পারেন এবং তা করতে গিয়ে আপনার কর্মচারী, বাজেট এবং পুরো প্রতিষ্ঠানের উপর শুধু শুধু আপনি বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছেন।

আপনার বিজনেসের লক্ষ্য স্থির করুন

সবাই তাদের বিজনেসের প্রসারের জন্য অনেক কৌশল বেবস্তা করে থাকে।অনেকে আগে থেকেই কয়েক বছরের বিজনেস পরিকল্পনা করে থাকে, যা বিজনেস এর অনেক বড় উপকার হয়।মনে রাকগবেন বিজনেস এর কোন লক্ষ না থাকলে ঐ বিজনেস কখনো সামনের দিক এগিয়ে যাবে না।এছারা যদি কোন লক্ষ্য না থাকে তাহলে আপনার টিম ও প্রতিষ্ঠানের পারফর্ম্যান্স পরিমাপ করার কোন ডকুমেন্ট  থাকবে না। যখন সবাই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যগুলো সম্পর্কে জেনে থাকে, তখন সবাই একসাথে কাজ করার আগ্রহ দেখাবে যার ফলে বিজনেসের লক্ষ্য পূরণ করা সহজ হয়ে যাবে।

একটা কথা মনে রাখবেন, মানুষ মানুষের জন্য কাজ করে কিন্তু  প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়

একটি বিজনেস প্রতিষ্ঠানে যোগ্য লোক ছাড়া বিজনেসের কার্যক্রম চালিয়ে  যাওয়া সম্ভব না। প্রসারিত হতে পারে এমনটি বিরল। আসলে, আমরা প্রায়শই বলে থাকি যে আমাদের কর্মীবাহিনীই আমাদের প্রতিষ্ঠানের একমাত্র সম্পদ এবং আমরা সব সময় আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি উন্নত করার চেষ্টায় থাকি যাতে আমাদের কর্মচারীরা আমাদের সাথে কাজ করা চালিয়ে যায়। অনেক প্রতিষ্ঠানই ভুলে যায় যে আসল আনুগত্য তখনই আসে যখন কর্মচারীরা বিশ্বাস করে প্রতিষ্ঠান এবং এর ম্যানেজমেন্ট সত্যি সত্যি তাদের জন্য কেয়ার করে থাকে। এর ফলে কর্মচারীরা অনেকদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের কাজের সাথে যুক্ত থেকে তাকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং বিজনেসের প্রসারে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।

 পেশা কিংবা বাণিজ্যে ভাল হওয়া এক নয়

একজন মানুষ মার্কেটিংয়ে খুব ভাল কিন্তু তার মানে  এই নয়, সে ভালভাবে একটি মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার যোগ্যতা থাকে। একটি বিজনেসকে সফলভাবে প্রেরনের জন্য দরকার একটি ভাল বিজনেস  মাইন্ড সেই সাথে নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করা। বিজনেস কার্যক্রমের অএঙ্ক গুলো নেপথ্যে থাকে তা হল  প্রক্রিয়া, লোক ব্যবস্থাপনা, রসিদ পর্যবেক্ষণ ও কার্যপ্রণালী – এগুলো বিজনেসের সাফল্যের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাদের পেশা ভাল করতে গিয়ে তাদের বিজনেসের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো সঠিকভাবে দৃষ্টিপাত  করতে পারে না ।

বিজনেসের ক্ষেত্রে অবশ্যই আবেগকে কাজে লাগাবেন

যখন আপনি আপনার বিজনেসের কাজকে  খুব ভালবাসতে শুরু করবেন তখন আপনার কর্মচারীরা বুঝতে পারবে। কাজের প্রতি আপনার পর্যাপ্ত আগ্রহ ও উত্তেজনা দেখার ফলে আপনার টিম বুঝতে পারবে তাদের আরো বেশি পরিশ্রম করতে হবে সেই সাথে লক্ষ্য স্থির রেখে তাদের কাজে সফল হতে বাধ্য। আর সেই সময়ে একটি ভাল পণ্য বা সেবা তৈরি করা সম্ভব হবে।আপনি মনে রাখবেন যদি কেউ অসুখী থাকে, তাহলে সে তার নেতিবাচক  আবেগ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে এবং আপনার কাজকে কঠিক করে তুলবে কারণ সে নিজেও তার কাজকে ভালবাসে গ্রহণ করতে পারছে না।

নিজেকে সর্ব সময় উন্নত করার চেষ্টা  করুন

আমাদের এই পৃথিবীকে প্রতি মুহূর্তে পাল্টে দিচ্ছে প্রযুক্তি। বিজনেসে টিকে থাকার জন্য নতুন কিছু উদ্ভাবন করা জরুরি । আপনাকে নতুন প্রোগ্রাম, নতুন ভাবনা, নতুন চিন্তা, নতুন প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করতে হবে।তাতে হয় আপনি উদ্ভাবনের মাধ্যমে নিজেকে অনেক এগিয়ে নিয়ে যাবেন না হয় মুখ থুবড়ে আপনি একেবারে অচল হয়ে  যাবেন। মনে রাখবেন,নতুন কিছু দিয়েই আপনি আপনার বিজনেসের পণ্যের মান বাড়িয়ে গ্রাহক দের মন রক্ষা করে আরো বেশি আর্থিক লাভ পেতে পারেন।

 মার্কেটিং – সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পরে অনেক প্রতিষ্ঠান মনে করে মার্কেটিং বড় খরচ এবং তা বাজেট থেকে দিয়ে দেয়। আসল কথা হল, মার্কেটিং আইডিয়ার ছড়াছড়ি  থাকে, মনে রাখবেন কিছু আইডিয়া সফল হয় আবার অন্য আইডিয়া গুলো মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। গ্রাহকরা তাদের টাকা খরচ করার ব্যাপারে বর্তমানে বেশ সচেতন, তারা সাধারণ ভাবে সেই সব পণ্যই ক্রয় করে থাকে যেগুলোর নমুনা তারা আগে ব্যবহার করে  বা যেগুলো তাদের সামনে তুলে ধরা হয় সেই গুলো তারা ব্যাবহার করে। এজন্য মার্কেটিংকে পণ্যের উদ্ভাবনের অংশ হিসেবে ধরতে হবে এবং যখন পণ্য বাজারে গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্য ছাড়া হয় তখন সেই পণ্যটি কীভাবে বাজারজাত  করা হবে তা খুব গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় করতে হবে।