কম্পিউটারে কাজ করতে করতে হঠাৎ করে কম্পিউটার এর মধ্যে কিছু সমস্যা দেখা যায়। তবে এই সমস্যা গুলো তেমন একটি বড় সমস্যা নয় তাই চেষ্টা করলে আপনি নিজেই ঐ সমস্যার সমাধান করতে পারেবেন। যাইহোক, এই পর্বে আপনাকে কম্পিউটার এর ছোট বড় ৩ টি সমস্যা এর সহজ সমাধান করে দেওয়া হল।

প্রথমে আপনার করণীয়!
আপনার কম্পিউটার এর কোনো সমস্যা দেখা দিলে অন্য কিছু কোন কাজ করার আগে প্রথম কাজটি যা করবেন তা হল, আপনি কম্পিউটারটি পুনরায় চালু বা রিস্টার্ট করে ফেলেন। আপনার এই ছোট কাজটি অনেক সমস্যার সমাধান করে দিবে। কম্পিউটারে সংযুক্ত কোনো যন্ত্রপাতির সমস্যা দেখা দিলে সেটি বন্ধ করে পুনরায় চালু করবেন। তারপরেও যদি কাজ না হয় তাহলে যন্ত্রটি প্রথমে কম্পিউটার থেকে খুলে আবার লাগিয়ে নিন, এরপর ঐটার সর্বশেষ সংস্করণের চালক সফটওয়্যার বা ড্রাইভার ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড পুনরায় ইনস্টল করুন।

 

 ১.কম্পিউটারের কাজের গতি কমে গেলে!

কম্পিউটার এর কাজের গতি কমে গেলে প্রথমে আপনার চিহ্নিত করতে হবে এটি আসলে কম্পিউটারের নিজের কোন সমস্যা কি না। ওয়েবসাইট লোডিং হতে বা অনলাইনে ভিডিও দেখার সময় বাফারিং একাধারে চলতে থাকাটা কম্পিউটারের সমস্যা নাও হতে পারে। যদি মনে হয় এটি কম্পিউটারেই সমস্যা তাহলে দেখে নিন হার্ডডিস্কের মধ্যে যে ড্রাইভ অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করা আছে তাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা আছে কি না । অপারেটিং সিস্টেম চলার সময় উইন্ডোজের ফাইল তৈরিতে খালি জায়গার প্রয়োজন হয়। অপর্যাপ্ত থাকলে ড্রাইভের কিছু জায়গা খালি করে ফেলুন। এর জন্য সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো ডিস্কম্যাক্স নামের একটি প্রোগ্রাম আছে। ডিস্কম্যাক্স প্রোগ্রামটি নামানোর ঠিকানা http://goo.gl/rgcY4Q। রিসাইকল বিন, ইনস্টলেশন রেমন্যান্ট, ইউজার হিস্ট্রি, টেম্পরারি ফাইল, কুকিজ, উইন্ডোজ ক্যাশ ইত্যাদি সব অপ্রয়োজনীয় মুছে সিস্টেম ড্রাইভসহ পুরো হার্ডডিস্ক পরিষ্কার করে রাখুন।

ধীরগতি কম্পিউটার এর আরেকটি সমস্যার সমাধান হলো মাইক্রোসফট সিস্টেম কনফিগারেশন টুল ব্যাবহার করা। কম্পিউটারে অনেক অ্যাপলিকেশন আছে যেগুলো কম্পিউটার চালু হওয়ার সংগে সংগে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যায়। আর তার জন্য কম্পিউটার পুরোপুরি প্রস্তুত হতে অনেক সময় লাগে। এর জন্য আপনার করণই Windows Key+R কি চেপে তাতে msconfig লিখে এন্টার চাপুন। এখান থেকে যেসব স্টার্টআপ আইটেম অপ্রয়োজনীয় আছে, সেগুলোর উপর থেকে টিক উঠিয়ে দিন। তবে সতর্ক থাকবেন ম্যানুফ্যাকচারার ট্যাবে মাইক্রোসফট করপোরেশন লেখা আইটেমগুলো থেকে টিক ওঠাবেন না। এবার ওকে চেপে কম্পিউটার রিস্টার্ট করে ফেলুন।

২. ইন্টারনেট সংযোগ সমস্যার সমাধান।

আপনার কম্পিউটার এ ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যা হলে সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো www.speedtest.net এর মাধ্যমে আপনার কম্পিউটার এর স্পিড চেক করে দেখুন যে ইন্টারনেটের গতি কেমন আছে। ইন্টারনেট সেবা দাতার সংযোগ দেওয়ার গতি কম্পক্ষে অর্ধেক পাচ্ছেন কি না তা ভাল করে দেখবেন। ভাল করে দেখুন নেট লাইন পিং করলে ১০০ মিলিসেকেন্ডের কম থাকে কি না । এছারা কোনো কিছু ডাউনলোড বা আপলোড হচ্ছে কি না। অনেক টরেন্ট ডাউনলোডিং প্রোগ্রাম এর ফলে টাস্কবারের পরিবর্তে সিস্টেম ট্রেত থেকে নিজে থেকে ডেটা ডাউনলোড বা আপলোড অয় কিনা। উইন্ডোজের অটোমেটিক এ আপডেট নির্বাচন করা থাকলে ব্যাকগ্রাউন্ডে নিজে নিজে ডাউনলোড হতে থাকে। আর এটা বন্ধ করতে চাইলে স্টার্ট বাটন চেপে সার্চ বক্সে লিখুন windows update তারপর এন্টার চাপুন। ‘চেঞ্জ সেটিংস’ ক্লিক করে নেভার চেক ফর আপডেটস অপশনটি নির্বাচন করে ওকে করুন । নেটওয়ার্কে ব্যবহূত হার্ডওয়্যারও ভাল করে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন । এছারা রাউটার বা সুইচের রিসেট বাটন চেপে সংযোগ সমস্যার সমাধান পাওয়া যেতে পারে অথবা দু-এক সেকেন্ডের জন্য পাওয়ার কেবল বিচ্ছিন্ন করেও চেক করতে পারেন ।

৩. কম্পিউটার বারবার রিস্টার্ট সমস্যার সমাধান।

আপনার কম্পিউটার এর হার্ডওয়্যার সমস্যা হলে সেটা সমস্যাটা নির্বাচন করে সমাধান করা অনেকটা কঠিনই। প্রথমে আপনার নিশ্চিত হতে হবে, উইন্ডোজ হালনাগাদ হচ্ছে কি না। আর এসব আপডেট ইনস্টল হওয়ার সময় স্বয়ংক্রিয় ভাবে কম্পিউটার রিস্টার্ট হয় কিনা । অনেক সময় ভাইরাস বা অ্যাডওয়্যারের বিশেষ কোন কারণে এমনটা হতেও পারে। এর জন্য আপনার করনি, অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার অথবা বিনামূল্যের মাইক্রোসফট সিকিউরিটি এসেনশিয়ালস সর্বশেষ হালনাগাদসহ ইন্টারনেট থেকে নামিয়ে ইনস্টল করে স্ক্যান করে নিতে পারেন। নামানোর ঠিকানা http://goo.gl/EW85AC আর এর সর্বশেষ ডেফিনিশন আপডেট ফাইলটি নামানোর ঠিকানা হল http://goo.gl/8TnmU5 আপনার কম্পিউটারের ধরন অনুযায়ী (৩২ বা ৬৪ বিট) ‘ম্যানুয়ালি ডাউনলোড দ্য লেটেস্ট আপডেটস’ সেকশন থেকে এই সফটওয়্যারটির হালনাগাদ ফাইল নামাতে পারবেন। এছারা ইন্টারনেটে সরাসরি হালনাগাদ করে নিতে পারেন।

আপনার কম্পিউটারের কোনো যন্ত্রাংশ স্বাভাবিক এর চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত গরম হয় তাহলে কম্পিউটার বারবার রিস্টার্ট নিতে পারে। বর্তমানে অনেক কম্পিউটারে সেফগার্ড থেকে থাকে যা দিয়ে যন্ত্রপাতি গরম হলে নিজে নিজেই কম্পিউটার বন্ধ হয়র যায়। আপনার সিপিইউ খোলার অভিজ্ঞতা থাকলে এছাড়া তাতে কোনো ওয়ারেন্টি সিল না থাকলে সেটি খুলে অনেক দিনের জমানো ধুলোবালি একটি ছোট ব্রাশ দিয়ে খুব সাবধানে পরিষ্কার করে নিতে পারবেন। তারপর র‌্যাম খুলে পরিষ্কার করে আবার লাগিয়ে নিন এবং হার্ডডিস্ক, ডিভিডি-রম ড্রাইভে সংযুক্ত ক্যাবল গুলো ভালোভাবে লাগালে রিস্টার্ট হওয়ার সমস্যা থেকে আপনি সম্পূর্ণ ভাবে রেহাই পেতে পারেন।